জানা-অজানা

যেভাবে সার্জন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হয়ে উঠলেন আল জাওয়াহিরি

আমেরিকানরা তাকে চিনত আল কায়েদার দ্বিতীয় বড় নেতা হিসেবে যিনি ঘন দাড়ির অধিকারী ছিলেন এবং ওসামা বিন লাদেনের পরেই যার অবস্থান ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তার রক্তাক্ত হাতেই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী আন্দোলন গড়ে ওঠে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই আল কায়েদা নেতাকে হত্যার খবর নিশ্চিত করেন।

জাওয়াহিরি তার নিজের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনি নির্দয়ভাবে অজস্র বেসামরিক মানুষদের হত্যার জন্য দায়ী। ১৯৯০ সালে তিনি আল কায়েদার সঙ্গে যুক্তই হয়েছিলেন পশ্চিমা বিশ্বের ওপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে। পাকিস্তানে এক মার্কিন হামলায় ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর আয়মান আল জাওয়াহিরি আল কায়েদার দায়িত্ব নেন।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম ও হোয়াইট হাউজ এ দাবি জানিয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, হোয়াইট হাউজ সোমবার (১ আগস্ট) কোনো কর্মকর্তার নামোল্লেখ না করে এই অভিযানের সন্ত্রাস-বিরোধী সফলতার কথা জানায়। আল জাজিরা জানায়, সিআইএ এর একটি ড্রোন দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

আয়মান আল-জাওয়াহিরি ১৯৫১ সালে মিসরের কায়রো নগরীর মাদি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মুহাম্মাদ রবি আল-জাওয়াহিরি’। শৈশবে আয়মান বিদ্যালয়ে প্রথম সারির ছাত্র ছিলেন, কবিতা ভালোবাসতেন এবং ঘৃণা করতেন যেকোনো হিংসাত্বক খেলা। আয়মান আল-জাওয়াহিরি চারটি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়।

আয়মান আল-জাওয়াহিরি একজন সার্জন ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি হজ্জ করতে সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি একবছরের জন্য চিকিৎসাবিদ্যায় অনুশীলন করতে জেদ্দায় থেকে যান।

যোগ্য সার্জন হওয়ায় ওসামা বিন লাদেনের আল কায়েদার সাথে নিজ সংগঠনকে একীভূত করতে তিনি বিন লাদেনের ব্যক্তিগত উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসক হন।

১৯৮১ সালে আয়মান আল-জাওয়াহিরি পাকিস্তানেও ভ্রমণ করেন। তিনি পাকিস্তানের পেশাওয়ারে একটি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আহত শরণার্থীদের চিকিৎসা করতেন। সেখানে তিনি আহমেদ খদরের বন্ধু হন এবং তারা দুজনে ইসলামী শাসন ও আফগান জনগণের প্রয়োজন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে আলোচনা করেন।

১৯৯৩ সালে আল-জাওয়াহিরি আমেরিকা ভ্রমণ করেন। সেখানে তিনি তার ছদ্মনাম আব্দুল মুঈয নামে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন মসজিদে পরিচিত হন। ১৯৯৫ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদস্থ মিসরীয় দূতাবাসে হামলা ছিল আল-জাওয়াহিরির নেতৃত্বে মিসরীয় ইসলামি জিহাদের প্রথম সফল আক্রমণ।

১৯৯৮ সালে আয়মান আল-জাওয়াহিরি মার্কিন দূতাবাসে হামলাতে অংশগ্রহণের জন্য আমেরিকার কালো তালিকাভুক্ত হন। ধারাবাহিক আক্রমণের একটি ১৯৯৮ সালের ৭ আগস্ট ঘটেছিল। যাতে পূর্ব আফ্রিকার উল্লেখযোগ্য শহর দারুস সালাম, তানজানিয়া এবং নাইরোবি, কেনিয়ার আমেরিকান দূতাবাসে ট্রাক বোমার বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক ১০০ জন লোক নিহত হয়।

তার মৃত্যুর বিষয়ে রয়টার্সকে এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ আল কায়েদা টার্গেটে যুক্তরাষ্ট্র সফল অভিযান চালিয়েছে। এসময় তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে কোনো বেসামরিক নাগরিক মারা যাননি।

এদিকে মার্কিন প্রশাসন বরাবরই বলে আসছে, টুইন টাওয়ারে হামলার নেপথ্য কারিগর ওসামা বিন লাদেনের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী আয়মান আল জাওয়াহিরি।

সূত্র- ওয়াশিংটন পোস্ট।

আরও পড়ুন ::

Back to top button