আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রী হয়েই যেসব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে লিজ ট্রাস

কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের ভোটে দলীয় প্রধান ও যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে তিনি। তবে ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই অন্তত চারটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে যুক্তরাজ্যের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রীকে। খবর এএফপির।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি
গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের ওপর মূল্যস্ফীতিসহ জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন লিজ ট্রাস। জনস্বাস্থ্য পরিষেবা ও কল্যাণমূলক তহবিলে অবদান রাখা জাতীয় বিমায় কর্মীদের অবদান বৃদ্ধির একটি সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বাতিলেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পরিশুদ্ধ জ্বালানিতে রূপান্তরে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন বরিস জনসন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সরাসরি সরকারি সহায়তার মতো ‘অস্থায়ী সমাধান’ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাস।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২২ সালের শেষের দিকে বছরব্যাপী দীর্ঘ অর্থনৈতিক মন্দায় প্রবেশ করবে যুক্তরাজ্য। এ অবস্থায় সপ্তাহখানেকের মধ্যে একটি জরুরি বাজেট ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগে গৃহস্থালি জ্বালানি বিলের ঊর্ধ্বগতি সামলাতে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারেন ট্রাস।

জ্বালানি
২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমনের হার শূন্যে নামিয়ে আনতে যুক্তরাজ্যের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের সমর্থক ৪৭ বছর বয়সী এ নেতা। বিতর্কিত ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির ব্যবহারসহ জ্বালানি খাতে সর্বাত্মক বিনিয়োগেরও পক্ষে তিনি।

উত্তর সাগর থেকে আরও বেশি জ্বালানি নিতে চান যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী। পারমাণবিক ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে বিনিয়োগের বিষয়ে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনাতেও সমর্থন রয়েছে তার।

ব্রেক্সিট
শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য থেকে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন লিজ ট্রাস। ২০১৬ সালে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইইউ ছাড়ার পক্ষে মত দিলে পক্ষ পরিবর্তন করেন তিনি।

ব্রেক্সিটের অন্যতম শর্ত হিসেবে ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সই করা উত্তর আয়ারল্যান্ড প্রোটোকলের বিভিন্ন অংশ পরিবর্তনে প্রস্তাবিত আইনের পক্ষে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাস।

যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য দেশটির আইন বই থেকে ইইউ’র সব বিধিবিধান তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তবে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যে কর্মী সংকটের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এ টোরি নেতা।

আর্থিক নীতি
লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট নিয়ন্ত্রকদের ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন লিজ ট্রাস। ফিনান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথোরিটি, প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশন অথোরিটি এবং পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রকদের একীভূত করতে চান তিনি।

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের পদক্ষেপগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাস। ১৯৯৭ সালের যে আর্থিক নীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটিকে কার্যকরী স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, সেটি পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী ব্যাপক মূল্যস্ফীতির মুখে এ বছর কয়েক দফায় সুদের হার বাড়িয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন ::

Back to top button