জাতীয়

‘দেশ যা চাইছে সেটাই হবে …’, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা রাজনাথ সিংয়ের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Rajnath Singh : ‘দেশ যা চাইছে সেটাই হবে …’, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা রাজনাথ সিংয়ের - West Bengal News 24

পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হানার পর গোটা দেশ ‘কুচক্রী’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি তুলেছে। সেই আবহেই এবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিলেন পাকিস্তানের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি। রবিবার দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা দেশের বিরুদ্ধে চোখ তুলে তাকিয়েছে তাদের যোগ্য জবাব দেওয়ার দায়িত্ব আমার।’ আর সেই বক্তব্যেই স্পষ্ট হল দেশের মধ্যে প্রত্যাঘাতের যে আবেগ বিরাজ করছে, তাকে মর্যাদা দিতেই কেন্দ্রের এই অবস্থান। তাঁর দৃপ্ত উচ্চারণ— ‘দেশ যা চাইছে সেটাই হবে…’

এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লির বাসভবনে বায়ুসেনা প্রধানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন, যেখানে রাজনাথ সিং-ও উপস্থিত ছিলেন। সেই আলোচনার পরই তিনি পৌঁছে যান সনাতন সংস্কৃতি জাগরণ মহোৎসবে। সেখানেই পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গে বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে চোখ তুলে তাকালে তাদের ছেড়ে কথা বলা হবে না। শত্রুর ভাষাতেই শত্রুকে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। গোটা দেশ প্রত্যাঘাত চাইছে। দেশবাসীর সেই চাহিদা পূরণ করা হবে। দেশবাসী যা চাইছেন সেটাই হবে।” পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সেনাকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব আমার। ফলে এটা আমার দায়িত্ব তাদের যোগ্য জবাব দেওয়া যারা আমার দেশে আঘাত হানবে।”

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করেও রাজনাথ সিং বলেন, “আপনারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভালো করে চেনেন। তাঁর কাজের ধরন ও দৃঢ় সংকল্পের বিষয়েও আপনারা অবগত। ঝুঁকি নেওয়ার সাহস উনি ওনার অতীত জীবন থেকে শিখেছেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, আপনারা যা চাইছেন সেটাই হতে চলেছে।” পহেলগাঁওয়ে হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় স্তরে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য বড়সড় কূটনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকেই।

অন্যদিকে, এই হামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, ২২ এপ্রিল দুপুরে বৈসরন ভ্যালি রিসর্টে হামলা চালায় চার জঙ্গি। তাদের মধ্যে দু’জন পাকিস্তানের নাগরিক, আর বাকি দু’জন কাশ্মীরি। চারজনের স্কেচ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, এই হামলায় গাইডের ভূমিকা নেয় আদিল ঠোকর নামে এক জঙ্গি। এছাড়াও আরও কারা এতে জড়িত থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, হামলায় লস্করের সঙ্গে পাক সেনা ও আইএসআই-এর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে— এমন প্রমাণ মজুত রয়েছে তদন্তকারীদের হাতে। সংস্থার রিপোর্ট বলছে, অন্তত ২০ জন ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার এই হামলায় সহায়তা করেছে এবং তারা এখনও কাশ্মীর অঞ্চলে সক্রিয়। গোটা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button