
সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে হাতিয়ার করে বহুদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোল বাংলাদেশের ইউনুস সরকার। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শনিবার একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা করেন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাঁর কথায়, ‘‘শনিবারের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কোনও রাজনৈতিক দল বা তার সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।’’ ট্রাইবুনালে আওয়ামি লিগের বিচার চলাকালীন দলটির সব রকম রাজনৈতিক তৎপরতায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
প্রবাসে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের উপর নিষেধাজ্ঞার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল ইউনুস সরকারের ওপর। জাতীয় পার্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের দপ্তরের সামনে আন্দোলন জোরালো হয়। প্রতিবাদকারীরা স্পষ্ট জানায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা না হলে তারা কার্যালয় ঘেরাও করবে। শাহবাগ এলাকাতেও আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে এবং সবাইকে ধৈর্য্য রাখতে বলা হয়।
রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ একটি বৈঠকে বসে আওয়ামি লিগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরে রাতের দিকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, ‘‘শনিবারের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে।’’ সংশোধনের মাধ্যমে ট্রাইবুনালকে রাজনৈতিক দল বা তাদের অনুগামীদের বিচার ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সরকার পক্ষ থেকে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মী এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর আগেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল ইউনুস প্রশাসন। ফলে ছাত্র সংগঠনটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন অচল। এবার পুরো আওয়ামি লিগকেই নিষিদ্ধ করা হলো। গত বছরের জুলাই মাসে দেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানো শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন। দলের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনও পর্যন্ত তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।



