সীমান্তে উত্তেজনার মাঝেই বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান, কী সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারতের অবস্থান কী হবে পাকিস্তানকে ঘিরে? সপ্তাহের শুরুতেই হতে চলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সংঘর্ষবিরতির পর সোমবার প্রথমবার মুখোমুখি আলোচনায় বসতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। দুই দেশের ডিজিএমও বা ‘ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস’ স্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে ঠিক কোন কোন বিষয়? সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে, নাকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সক্রিয় পদক্ষেপে নামবে ভারত?
যদিও সংঘর্ষবিরতির পরে শনিবারও গুলির আওয়াজ শোনা গিয়েছে সীমান্তে। রবিবার পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত থাকলেও, এখনো কড়া নজরদারিতে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনী। সতর্ক করা হয়েছে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষকেও। এর মধ্যেই আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা নাগাদ এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। ভারতের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেবেন ডিজিএমও রাজীব ঘাই এবং পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন মেজর জেনারেল কাসিফ আবদুল্লা। প্রথমে ভাবা হয়েছিল কোনও ‘Neutral’ জায়গায় বসবে দুই পক্ষ, তবে আপাতত স্থির হয়েছে যে এই বৈঠক হবে ‘হটলাইনের’ মাধ্যমে।
এই আলোচনার বিষয়ে ভারত সরকার এখনো পর্যন্ত কোনও বিশদ বিবৃতি দেয়নি। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা ‘সিন্ধু জলচুক্তি’ নিয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলবে।
রবিবার খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, “পাকিস্তান সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে কথা বলবে”। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং কাশ্মীর ইস্যু নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত ইতিমধ্যেই কাশ্মীর নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত চাই’।
রবিবারই দেশের তিন বাহিনীর শীর্ষকর্তারা একত্রে বৈঠক করেন। সেখান থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—”পাকিস্তানের যেকোনো রকম আগ্রাসন বরদাস্ত করা হবে না।” ‘অপারেশন সিঁদুরে’ চলাকালীন শুধুমাত্র জঙ্গিঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের উপর নয়। তবে পাকিস্তান তার সম্পূর্ণ বিপরীত পথে চলেছে—’জম্মু-কাশ্মীর’, ‘পঞ্জাব’ থেকে ‘রাজস্থান’-এ সাধারণ মানুষের বসতবাড়ির উপর ‘ড্রোন হামলা’ চালানোর চেষ্টা করেছে, যাকে সফলভাবে প্রতিহত করেছে ভারত। পাকিস্তানের প্রতিটি আক্রমণের যোগ্য জবাবই দিয়েছে ভারতীয় সেনা।
কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—আর কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলাকে সরাসরি ‘যুদ্ধের সূচনা’ হিসেবে দেখবে ভারত। এখন নজর আজকের বৈঠকের দিকে, দেখা যাক কী বার্তা উঠে আসে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা থেকে।



