বাংলার অলিগলিতে ঘোরাঘুরি, ইউটিউবার জ্যোতির উদ্দেশ্য কি শুধুই ভ্লগ নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে তথ্য পাচারের ছক?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পাকিস্তানের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নাম জড়িয়েছে লাস্যময়ী ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রার (YouTuber Jyoti Malhotra)। চলতি বছরেই তিনি কলকাতায় আসেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। অংশ নেন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। তবে শহরজুড়ে তার এই সফরের পেছনে কি কেবলমাত্র ইউটিউব কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর নেপথ্যে ছিল আরও গভীর কোনও ষড়যন্ত্র?
জ্যোতির ভ্লগ ঘেঁটে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শেওড়াফুলিতে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সে কারণে রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়ে দিল্লি থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছন। স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে ভ্লগে হলুদ ট্যাক্সি দেখান। এবং হলুদ ট্যাক্সি চড়ে কলকাতার পথে ঘোরার ইচ্ছাপ্রকাশও করেন।’
এই ভিডিওর ভিত্তিতে অনুমান করা হচ্ছে, তিনি কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘোরাফেরা করছিলেন পরিকল্পিতভাবে। শুধু তা-ই নয়, ‘বারাকপুরের জনপ্রিয় দোকান থেকে কিনে বিরিয়ানিও খান। লোকাল ট্রেনেও চড়েন। সেকথা নিজেই ভ্লগেই জানান জ্যোতি।’
তাঁর ভ্লগ ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে, ‘হাওড়া ও দমদম স্টেশন, হাওড়া ব্রিজ, বালি ব্রিজ, দামোদর ব্রিজের ছবি দেখা গিয়েছে। বরানগর মেট্রো ধরে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরেও গিয়েছিলেন জ্যোতি। নদিয়ার গেদে সীমান্তর ছবিও দেখা গিয়েছে ভ্লগে। ভুটান যাওয়ার পথে সেবক রোড হয়ে করোনেশন ব্রিজেও গিয়েছিলেন।’
এত ঘন ঘন ও বিস্তৃত ভ্রমণের পেছনে কেবল ঘোরাফেরা নয়, অন্য কোনও উদ্দেশ্যও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। তাদের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে, তিনি একবার নয়, অন্তত চারবার কলকাতায় এসেছিলেন এবং প্রতিবার সফরের পর ফিরে যান পাকিস্তানে।
দিন যত যাচ্ছে, ততই সামনে আসছে এই ইউটিউবার সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য। বাংলার মাটিতে তাঁর উপস্থিতি নিছক কাকতালীয় নাকি সুপরিকল্পিত কোনও মিশনের অংশ—তা নিয়েই চলছে জোর জল্পনা। তিনি কি শুধু ভিডিওর জন্য ঘুরছিলেন, নাকি খুঁজছিলেন কোনও নিরাপদ আশ্রয়?
তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। ‘শেওড়াফুলিতে কার আমন্ত্রণে জ্যোতি বাংলায় এসেছিলেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন, তা তদন্তসাপেক্ষ। ভ্লগে একা কলকাতায় আসার কথা উল্লেখ করেন করেছিলেন জ্যোতি। তবে তাঁর সঙ্গে আরও কেউ বাংলায় এসেছিলেন কিনা, সে বিষয়টিও ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’



