সিকিমের প্রতিষ্ঠা দিবসে যোগ দিতে যাচ্ছেন মোদি, চিনের দিকে কড়া বার্তা দেওয়ার সম্ভাবনা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৯ মে সিকিম সফরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সিকিম রাজ্যের ৫০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানকে চিনের সহায়তার প্রেক্ষাপটে, চিন সীমান্তের পাশে অবস্থিত সিকিমে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সফর নিয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা আসেনি, তবে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং ইতিমধ্যেই সফরের তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।” ওই দিন পালজোর স্টেডিয়ামে প্রায় ‘১ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি’ প্রত্যাশিত। প্রধানমন্ত্রী এই সফরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প উদ্বোধন করবেন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ দিক হল— প্রতিবেশী চিনের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরা। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পাল্টা হিসাবে পাকিস্তান ভারতের উপর হামলা চালায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, সেই হামলায় পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায় চিন। কেবল অস্ত্র নয়, প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও সহায়তা করেছে ‘লালফৌজ’। এছাড়াও, সীমান্তে চিনা আগ্রাসন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষিতে, প্রধানমন্ত্রী সিকিমে গিয়ে কী বার্তা দেন, তা নিয়ে গোটা দেশের কৌতূহল তুঙ্গে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার পরও সিকিম ছিল একটি পৃথক প্রটেক্টরেট রাষ্ট্র। ১৯৫০ সালে ভারত-সিকিম শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ভারত বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে নেয়, যদিও অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থা সিকিমের হাতে ছিল। পরবর্তীকালে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন প্রবল হয়। ১৯৭৩ সালে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সিকিমের তৎকালীন রাজা ভারতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এরপর ১৯৭৫ সালের ‘১৪ এপ্রিল’ গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই ভোটের রায়ের ভিত্তিতে ‘১৬ মে’ সিকিম ভারতের রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।



