
এবার বর্ষা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সক্রিয় হতে পারে বলে আগেই আভাস দিয়েছিল মৌসম ভবন। লঘুচাপ এবং বায়ুর গতিপথ বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছিল, চলতি বছর এল নিনোর প্রভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে। সেই পূর্বাভাসকে সত্যি করে দিয়ে শনিবার কেরলে আগমন ঘটল মৌসুমি বায়ুর। যা নির্ধারিত সময়ের আট দিন আগেই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশ করল।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল কেরলেই নয়, বর্ষা পৌঁছে গিয়েছে কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং মিজোরামেও। খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রেও তার প্রবেশ ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০০৯ সালের পর এই প্রথম এতটা আগে ভারতের মূল ভূখণ্ডে ঢুকল বর্ষা। সেবার ২৩ মে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছিল। দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে বর্ষা প্রথম পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের অন্যান্য অংশে। সাধারণত ১ জুন বর্ষা কেরলে আসে, কিন্তু এবার তা এল ২৪ মে, অর্থাৎ আট দিন আগে।
আবহাওয়ার ইতিহাস অনুযায়ী, সবচেয়ে আগে বর্ষা এসেছিল ১৯১৮ সালে, ১১ মে। আবার সবচেয়ে দেরিতে বর্ষা এসেছিল ১৯৭২ সালে, ১৮ জুন। তখন কেরলে মৌসুমি বায়ু ঢুকেছিল ৯ জুন। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বর্ষা এসেছিল ৮ জুন, ২০২২-এ ২৯ মে এবং ২০২১ সালে ৩ জুন। এবার সেই সময়সীমা অনেকটাই এগিয়ে এসেছে।
বাংলা ও পূর্বাঞ্চলে এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ঝাড়খণ্ডে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা ২৯ মে পর্যন্ত চলতে পারে। এছাড়া ২৪ থেকে ২৬ মে-র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, মধ্যপ্রদেশ, বিদর্ভ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং বিহারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।



