
নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজ্য সরকার নতুনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শুক্রবার, ৩০ মে শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যাঁরা পূর্বে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা ফের নতুন পরীক্ষায় বসতে অনিচ্ছুক। তাঁদের মূল দাবি, ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের সম্মানজনকভাবে পুনঃনিয়োগ দিতে হবে। তাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—ফর্ম পূরণ করবেন কি না তাঁরা? বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করেন ‘যোগ্য’ চাকরিচ্যুতরা। জানান, এখনই তাড়াহুড়ো করে ফর্ম পূরণ করা হবে না, বরং রাজ্য সরকারের রিভিউ পিটিশনের শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তাঁরা।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শুক্রবার সকাল থেকেই ‘যোগ্য’ প্রার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেন। শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে জমায়েত করে নবান্ন অভিমুখে মিছিল করার পরিকল্পনা থাকলেও, পুলিশ তাঁদের সেখানেই আটকায়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চলে ধরপাকড়। দিনভর চলে বিক্ষোভ কর্মসূচি। এমনকি, পুলিশের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। এর প্রতিবাদে আগামী রবিবার রাজ্যজুড়ে ধিক্কার মিছিলের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
পরে বিকেলে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থী মঞ্চ-এর সদস্য মেহবুব মণ্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমরা এক পরীক্ষার জন্য দু’বার পরীক্ষা দেব কেন? নতুন পরীক্ষার জন্য সময় অনেক কম। যারা নতুন করে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের জন্য হয়ত সহজ হবে। কিন্তু আমাদের এখন মানসিক অবস্থা ভালো নয়। সময় কম। অনেকের পরিবারই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তাদের কাছে আবার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়া অতটা সহজ নয়।”
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, সেটিকেও প্রশ্নবিদ্ধ মনে করছেন প্রার্থীরা। মেহবুব মণ্ডল বলেন, “এক্সপিরিয়েন্সে ১০। এটা দিয়ে সরকার মনে করছে, আমাদের সুরাহা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু না, এটা শুধু আমদের জন্য না। যাদেরই টিচিং-এর অভিজ্ঞতা আছে তাদের সবার জন্য। এই যে বলেছে নবম, দশম ও একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ, এটা তো আরও দ্বিচারিতা। এখানে সবার কথাই বলা হচ্ছে। টিচিং অভিজ্ঞতা যাদের আছে সবার কথাই বলা হচ্ছে। ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।”



