রাজনীতিরাজ্য

‘বেড রেস্টে’র পরামর্শ, কিন্তু রোগের উল্লেখ নেই! অনুব্রত মণ্ডলের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ঘিরে বিতর্ক

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Anubrata Mondal : ‘বেড রেস্টে’র পরামর্শ, কিন্তু রোগের উল্লেখ নেই! অনুব্রত মণ্ডলের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ঘিরে বিতর্ক - West Bengal News 24
অনুব্রত মণ্ডল

অনুব্রত মণ্ডলের জমা দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সেই সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন পুলিশের তলব। যদিও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর অসুস্থতার কথা এবং পাঁচদিনের ‘বেড রেস্টে’র পরামর্শ, তবু কী রোগে তিনি আক্রান্ত, তা সেখানে লেখা নেই। বিষয়টি ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। এমনকি যিনি এই সার্টিফিকেটে সই করেছেন, সেই চিকিৎসকের পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়।

বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে অনুব্রতের বিরুদ্ধে। তাঁদের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। সেই ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় এফআইআর। মোট চারটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দু’টি জামিন অযোগ্য ধারা। শান্তিনিকেতন থানায় রবিবার সকাল ১১টায় তাঁকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ডাকা হলেও, তাঁর হয়ে হাজির হন আইনজীবী বিপদতারণ ভট্টাচার্য। তিনি পুলিশকে একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেন। যদিও স্থানীয় কেউই অনুব্রতকে হাসপাতালে যেতে দেখেননি, এমনকি কোনও চিকিৎসককে তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন বলেও জানা যায়নি। ফলে এই সার্টিফিকেট কোথা থেকে এবং কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ।

এই সূত্র ধরে, যেই হাসপাতাল থেকে এই মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে, সেখানকার দুই প্রতিনিধিকে ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এসডিপিও অফিসে—এমনটাই খবর। জানা যাচ্ছে, অনুব্রতের একাধিক পুরনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে—সিওপিডি, হৃদরোগসহ অন্যান্য সমস্যা। এই অবস্থায় বিশ্রামের পরামর্শ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কেন ‘বেড রেস্টে’র পরামর্শ, তার কারণ তো অবশ্যই সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকা উচিত ছিল।

এই সার্টিফিকেটে সই করেছেন এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক, ডা. এইচ চৌধুরী। জানা গিয়েছে, তিনি নাকি একইসঙ্গে এক সরকারি মহকুমা হাসপাতালেও কর্মরত। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালটির মালিক মলয় পীট—যিনি গরু পাচার মামলায় একাধিকবার সিবিআইয়ের তলবে পড়েছেন। তাঁর শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সঙ্গে অনুব্রতের সংযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মলয় পীট বলেন, “রাজ্যের বাইরে আছি। বিষয়টি শুনেছি। গিয়ে দেখব। তবে কোন ডাক্তার কাকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ইস্যু করছেন, সব কিছু তো জানা সম্ভব নয়। তবে আমি ফেরার পরে বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখব।”

এদিকে বিরোধীদের দাবি, অনুব্রতের ‘অসুস্থতা’ দেখিয়ে হাজিরা এড়ানোর কৌশল নতুন কিছু নয়। অতীতে গরু পাচার তদন্ত চলাকালীন, বোলপুর হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী গিয়ে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করেন। প্রথমে তিনি জানান, অনুব্রতের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক, তাঁকে ১৪ দিনের বিশ্রামে রাখা দরকার। কিন্তু পরে এসএসকেএম হাসপাতাল জানায়, ক্রনিক সমস্যা থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী পরে বিস্ফোরক দাবি করেন, তিনি বোলপুর হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু-এর নির্দেশেই অনুব্রতের বাড়িতে গিয়েছিলেন, এমনকি হাসপাতালে নির্ধারিত প্রেসক্রিপশন প্যাড না থাকায় সাদা কাগজে তাঁর পরামর্শ লিখে দেন। ডা. অধিকারীর বক্তব্য, অনুব্রত মণ্ডলই তাঁকে বলেছিলেন বেড রেস্ট লিখতে। যেহেতু বোলপুরেই থাকেন, তাই অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশ অমান্য করার সাহস তাঁর হয়নি। এখনকার সার্টিফিকেট ঘিরে বিতর্কে পুরনো এই ঘটনা আবারও উঠে এসেছে আলোচনায়।

আরও পড়ুন ::

Back to top button