আদানি গোষ্ঠীর চুক্তি বাতিল, তাজপুর বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্যের নতুন সিদ্ধান্ত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটল। রাজ্য সরকার অবশেষে এই প্রকল্পটি আদানি গোষ্ঠীর কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি ‘আদানি গোষ্ঠীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে’।
২০২০ সালের অক্টোবর মাসে এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান করে ‘গ্লোবাল দরপত্র’ ডাকা হয়েছিল। সেই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আদানি গোষ্ঠীকে বেছে নেয় রাজ্য। ‘রাজ্য মন্ত্রিসভা তাদের ‘লেটার অফ ইনটেন্ট’ দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মতি দিয়েছিল’ এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের পক্ষ থেকে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। একই বছরের উৎসবকালে ‘আদানি গোষ্ঠীর হাতে তাজপুর গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য ‘লেটার অফ ইন্টটেন্ট’ তুলে দেওয়া হয়’। কিন্তু তারপরও কাজের শুরু হয়নি। ‘সূত্রের খবর, ভারত সরকারের কাছ থেকে অনুমতি না মেলায় এই টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে বলে আদানি গোষ্ঠীকে জানানো হয়েছে।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রিনফিল্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করে বন্দরটি তৈরি করতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরিকাঠামোগত খাতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘২৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পাশাপাশি এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে’। শুরুতে প্রকল্পের অগ্রগতিতে কোনও অসঙ্গতি দেখা যায়নি।
তবে ২০২৩ সালে ‘হিন্ডেনবার্গ’ রিপোর্ট প্রকাশের পর আদানি গোষ্ঠীকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। তাদের বিরুদ্ধে শেয়ারমূল্য বাড়িয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অবশেষে সেই সংশয় সত্যি হলো। তবে শুধু এই কারণ নয়, আরও কিছু বিষয় রয়েছে পর্দার আড়ালে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এর পেছনে আরও কিছু কার্যকর কারণ রয়েছে।
‘সূত্র বলছে, এই মুহূর্তে আদানি গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে ওড়িশার ধামড়া এবং পারাদ্বীপের সমুদ্র বন্দর’ – যা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। উপরন্তু, ‘আদানি গোষ্ঠীর কাজের বেশিরভাগটাই যন্ত্রনির্ভর’ হওয়ায় মানুষের কাজের সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ‘এক লক্ষ কর্মসংস্থান কীভাবে সম্ভব?’ – এই প্রশ্নটি উঠে আসছিল।
এর পাশাপাশি পরিকাঠামো নিয়েও বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। তাজপুর বন্দর থেকে ‘রেলপথের দূরত্ব ৯ কিমি আর হাইওয়ের দূরত্ব ৫ কিমি’। মাঝখানে রয়েছে বসতবাড়ি, যা অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার বরাবর জমি অধিগ্রহণ বিরোধী অবস্থানে থেকেছে। ‘যদিবা জমি অধিগ্রহণ করে পুনর্বাসনেরও ব্যবস্থা করা হয, এক লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের ইস্যুই প্রধান হয়ে উঠল।’



