ইরানে পরমাণু হামলার পরিণতি কী ভারতেও? ছড়াতে পারে তেজস্ক্রিয়তা, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে হিরোশিমা-চেরনোবিলের স্মৃতি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার ঘটনায় নতুন করে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে বিশ্ব। আমেরিকা একপ্রকার গর্বের সঙ্গেই এই ধ্বংসযজ্ঞের কথা প্রকাশ্যে আনলেও, এখনো পর্যন্ত ইরানে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর সুনিশ্চিত তথ্য নেই। তবুও ইতিহাসের পাতায় হিরোশিমা-নাগাসাকি (১৯৪৫), চেরনোবিল (১৯৮৬) ও ফুকুশিমা (২০১১)-র মতো ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার স্মৃতি অনেকের মনে জেগে উঠেছে। ফলে, ইরানে যদি পারমাণবিক বিস্ফোরণের কারণে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়—ভারতসহ গোটা এশিয়াতেই তা বিপদ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পরমাণু ঘাঁটি যদি ধ্বংস হয় এবং তেজস্ক্রিয় কণা ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা দ্রুত বায়ুমণ্ডলে ভেসে পশ্চিমমুখী বাতাসে ভেসে আসবে পাকিস্তান ও ভারতের দিকে। এতে ভারতের জল, মাটি ও বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো কৃষিপ্রধান রাজ্য এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই দুটি রাজ্য ভারতের খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। রবিশস্য ধ্বংস হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ভয়াবহ চাপে পড়বে। দিল্লিও রেহাই পাবে না। এমনিতেই দূষণে জর্জরিত রাজধানীর উপর তেজস্ক্রিয় কণার প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
রাজস্থানের ক্ষেত্রেও আশঙ্কা রয়েছে। শুষ্ক জলবায়ুর কারণে এই রাজ্যে তেজস্ক্রিয় ধূলিকণার মিশ্রণ ঘটবে জলাশয়গুলিতে। যার প্রভাব থেকে বছরের পর বছর সেখানকার মানুষ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইভাবে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো গঙ্গা তীরবর্তী রাজ্যগুলিও তেজস্ক্রিয় কণার প্রভাবে আক্রান্ত হতে পারে। এই তেজস্ক্রিয়তা সেখানকার পানীয় জল এবং কৃষিপণ্য—বিশেষ করে ধান ও গম—উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া উত্তরের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলেও প্রভাব পড়তে পারে। নদীর জলের সঙ্গে বিকিরণ পৌঁছে যেতে পারে হিমবাহ পর্যন্ত। তার ফলে শুধু পরিবেশ নয়, ভারতের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও চরম চাপে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, ভারতের বহু শহর পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল এবং দূষণপ্রবণ এলাকা। তার মধ্যে পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব সরাসরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানবে। ক্যানসারসহ একাধিক মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষিক্ষেত্রে দূষণের প্রভাব আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।



