পশ্চিম মেদিনীপুর

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রেলা গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তার বেহাল দশা, জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রেলা গ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তার বেহাল দশা, জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে - West Bengal News 24

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত দাঁতন ২ নং ব্লকের রেলা গ্রামে অবস্থিত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন আশেপাশের প্রায় ৫ থেকে ৬টি গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিগত ৫-৬ বছর ধরে এই রাস্তার কোনরকম সংস্কার হয়নি। বিশেষ করে বর্ষাকালে রাস্তা জলমগ্ন ও কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি প্রশাসনিক অবহেলার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জরুরি সময়ে রোগীদের — বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে মারাত্মক সমস্যা হয়। এমনকি এই সময় ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া কার্যত দুস্কর। এর ফলে একাধিক বার গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাসিন্দারা জানান, বহুবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আরও অভিযোগ উঠেছে, রাস্তাঘাট নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি তহবিল স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার দ্বারা অপব্যবহৃত হয়েছে এবং সেই টাকা নিজেদের বাড়ির সামনে রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে।

একজন অভিযোগকারী বলেন, “একবারও রাস্তার মেরামতির কোনো প্রকল্প এখানে বাস্তবায়িত হয়নি। যেন রেলা গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার যোগ্যই নয়— এইভাবে আমাদের প্রতি অবহেলা করা হচ্ছে।”

এই রাস্তাটি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন —
১. রেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটি অবিলম্বে পরিদর্শন করে এর বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করা হোক।
২. আগে বরাদ্দকৃত তহবিলের যথাযথ তদন্ত করে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৩. জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার শুরু করা হোক।
৪. জনসাধারণের টাকায় নির্মিত রাস্তার কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।

স্থানীয়দের মতে, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে যদি এত বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে “সবার জন্য স্বাস্থ্য” স্লোগান কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ছে। তারা আশাবাদী, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের কণ্ঠস্বর প্রশাসনের কানে পৌঁছাবে এবং শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • (এই প্রতিবেদনটি স্থানীয়দের দ্বারা জমাকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে রচিত। প্রশাসনের তরফে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।)

আরও পড়ুন ::

Back to top button