
মহাকাশে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনার পরিবেশ। সৌরমণ্ডলের চেনা কাঠামো ও ছন্দ যেন আচমকাই ব্যাহত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের উপর তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। এর নেপথ্যে রয়েছে এক চাঞ্চল্যকর কারণ। “আমেরিকার ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা NOAA-এর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সূর্যে বড়সড় ছিদ্র তৈরি হয়েছে, যার অবস্থান একেবারে পৃথিবীর মুখোমুখি”। সেই ফাটল দিয়ে অনবরত বেরিয়ে আসছে “এক্স রে, অতিবেগুনি রশ্মি”, যা সরাসরি পৃথিবীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই রশ্মির তীব্রতা আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রার গ্রাফে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে জানাচ্ছেন NOAA-র বিশেষজ্ঞরা।
এই ধরনের ‘করোনাল হোল’ বা সূর্যপৃষ্ঠের ছিদ্র আসলে সৌরমণ্ডলের একটি স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, এবার যা দেখা গেছে তা যথেষ্ট ভয়ঙ্কর বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ সাধারণত সূর্যের চারপাশ থেকে আগুনের ধারা নির্গত হয়েই সৌরমণ্ডলে প্রভাব ফেলে। যেহেতু পৃথিবী সূর্যের সরাসরি আলো ও তাপের ওপর নির্ভরশীল, তাই সূর্যে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনই বিজ্ঞানীদের কড়া নজরে থাকে।
এমন ছিদ্র সাধারণত হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় এবং তার প্রভাব থাকে স্বল্পমেয়াদি। সাধারণত এক-দু’সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু সম্প্রতি “NOAA-র বিজ্ঞানীরা এক্স রে পরীক্ষায় দেখতে পেয়েছেন, সূর্যের শরীরে এই ছিদ্র বেশ বড় আকার নিয়েছে” এবং এখান থেকে “হু হু করে তপ্তশিখা ছড়াচ্ছে”। এই প্রবাহ এতটাই শক্তিশালী যে আগামী “২৫ জুন” এর জেরে “সূর্যের চারপাশে তীব্র তড়িৎচুম্বকীয় ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে”।
সাধারণত সূর্যের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলেই এই ধরনের ছিদ্র বেশি দেখা যায়, কারণ ওই অংশগুলোর “তড়িৎচুম্বকীয় ক্ষেত্র পুরোপুরি উন্মুক্ত”। এখান থেকেই অগ্নিশিখার প্রবাহ বেরিয়ে এসে সৌরঝড়ের রূপ নেয় এবং তা পৃথিবীর আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলে। কিন্তু এবার এক্স রে চিত্রে দেখা গেছে, এমন একটি ছিদ্র সূর্যের “কেন্দ্রের ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন অঞ্চলে” দেখা যাচ্ছে, যা আরও বেশি আশঙ্কার কারণ। এখান থেকেই শক্তিশালী তরঙ্গ নির্গত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, “গত ৩১ মে এমনই এক সৌরঝড় প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলেছিল”, যা পৃথিবীর এক স্যাটেলাইটে ধরা পড়ে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা যে ছিদ্রটি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তার “অবস্থান একেবারে পৃথিবীর মুখোমুখি”। ফলে তার প্রভাবও যে আরও বেশি হতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।



