প্রযুক্তি

‘তুমি না থাকলে…’- কাচের দেয়ালের দু’পারে শুভাংশু ও কামনার আবেগের ছবি ভাইরাল

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Shubhanshu Shukla : ‘তুমি না থাকলে…’- কাচের দেয়ালের দু’পারে শুভাংশু ও কামনার আবেগের ছবি ভাইরাল - West Bengal News 24

এ যেন রূপকথার এক ক্ষণিক দৃশ্য! দু’জনের মাঝে রয়েছে কাচের এক প্রাচীর। একদৃষ্টে একে অপরের দিকে তাকিয়ে— যেন এই দেওয়ালই মহাকাশযাত্রার প্রতীক। ভারতীয় নভোচর শুভাংশু শুক্লা ও তাঁর স্ত্রী কামনার এই মুহূর্তটি বুধবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। তবে একে কি শুধুই ভাইরাল বলা যায়? সময়ের গতির সঙ্গে তাল মেলালেও এই ছবির আবেগ ও তাৎপর্য বোঝাতে ‘ভাইরাল’ শব্দটিই যথেষ্ট নয়। কারণ অনুভূতির এমন গভীরতা কেবল প্রযুক্তির চোখে ধরা পড়ে না। এই ছবিতে লুকিয়ে রয়েছে আবেগের বিশালতা, দূরত্বের সেতুবন্ধন, যা যেকোনো মহাকাশ যাত্রাকে করে তোলে আরও স্বর্গীয়।

বুধবার দুপুরে গোটা দেশ তাকিয়ে ছিল আকাশে। প্রথম ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন শুভাংশু শুক্লা। পরদিন তিনি সেখানেও পৌঁছে যান। উৎক্ষেপণের মুহূর্তে টিভি ও মোবাইল স্ক্রিনে ধরা পড়েছিল মা-বাবার আবেগ, হাততালি, চুমু। কিন্তু তার থেকেও বেশি মন ছুঁয়ে গিয়েছিল শুভাংশু ও কামনার বিদায়ের দৃশ্য। নিয়ম অনুযায়ী ছুঁতে না পারলেও, কাচের দুই প্রান্তে হাত রেখে অনুভব করেছিলেন একে অপরকে। ছোঁয়ার অভাব ছিল বটে, কিন্তু সেই অনুভূতিতে কোনও ঘাটতি ছিল না।

কামনা কি তখন চোখের জল সামলাতে পারছিলেন? নিজের হাতের উলটো দিকে মুখ লুকিয়ে ছিলেন তিনি। হয়তো কাঁদছিলেন। মনে পড়ে যায় গুলজারের সেই লাইন — ‘তুমহারি খুশক সি আঁখে ভালি নেহি লাগতি/ উও সারি চিজে জো তুমকো রুলায়ে, ভেজি হ্যায়।’— প্রিয়জনের চোখের জল যেন শুভাংশুর সঙ্গে রওনা দিয়েছিল মহাশূন্যে। সেই শূন্যতার ভেতর ভেসে উঠবে পুরনো সব স্মৃতি, সেই ছোটবেলার স্বপ্ন— আকাশ পেরিয়ে মহাকাশে পৌঁছনোর ইচ্ছা। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলতে শুধু মা-বাবা নয়, পাশে ছিলেন আরও একজন— কামনা।

তৃতীয় শ্রেণিতে লখনউয়ের এক স্কুলে তাঁদের প্রথম আলাপ। এরপর সময় এগিয়েছে। একজন হয়েছেন বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন, আরেকজন ডেন্টিস্ট। একত্রে পথচলা কয়েক বছরের। তাঁদের ছেলের বয়স এখন ছয়। শুভাংশুর স্বপ্নে উড়তে থাকা মহাকাশযান কখনও থেমে যেত না, কারণ কামনা ছিলেন ছায়ার মতো পাশে। শুভাংশুর মা আশা শুক্লাও স্বীকার করেন এই সত্যি।

অভিযানের আগে এক দীর্ঘ নোটে শুভাংশু লিখেছিলেন: ‘বিশেষ ধন্যবাদ কামনাকে, এক সুন্দর সঙ্গী হওয়ার জন্য। তুমি না থাকলে এসব ঘটা সম্ভবই ছিল না। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল এত সব কিছুতে কিছুই যেত আসত না।’ অর্থাৎ, এই ঐতিহাসিক অর্জনও তেমন অর্থবহ হত না যদি পাশে না থাকতেন কামনা। তবে সে কথার প্রমাণ দিতে আলাদা করে কিছু লেখার প্রয়োজনই পড়ে না— তাঁদের কাচের দেওয়ালের দুই পাশে দাঁড়ানো ছবিটি যেন সব কিছু বলে দেয়: “তুমি আছ তাই… তুমি না থাকলে…”

আরও পড়ুন ::

Back to top button