প্রথমবার দিঘায় রথযাত্রা, রথ টানার সময় ও পরিকল্পনা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর দিঘায় এবার প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে রথযাত্রা, আর তা ঘিরেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। অনুমান করা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমবেত হবেন এই আয়োজনে। ইতিমধ্যে দিঘায় পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আয়োজন পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট কমিটির সঙ্গে একটি প্রস্তুতি বৈঠকে অংশ নেন।
মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরের ৭ নম্বর গেট থেকে পায়ে হেঁটে ৩ নম্বর গেট পর্যন্ত যান। এই পথে হেঁটে রথের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পরীক্ষা করেন তিনি, সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও হিডকোর ভাইস চেয়ারম্যান। ওই সময় রাজ্যের পাঁচ মন্ত্রী—অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “রথযাত্রার দিন জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন ভক্তরা। পাথরের বিগ্রহ মন্দিরে থাকবে এবং রথে থাকবে নিমকাঠের প্রতিমা।”
রথযাত্রার দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে মন্দিরে পুজোপাঠ শুরু হবে। দুপুর ২টা থেকে আড়াইটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আরতি। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। দুপুর আড়াইটে নাগাদ রথ টানার কাজ শুরু হবে এবং বিকেল ৪টার মধ্যে রথ পৌঁছে যাবে ‘মাসির বাড়ি’। এই আয়োজনকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রথযাত্রা দর্শনে আসা পুণ্যার্থীরা ব্যারিকেডের অপর পাশে দাঁড়িয়ে রথ দেখতে পারবেন। ব্যারিকেডের গা ঘেঁষে রাখা থাকবে রথের রশি, যাতে ভক্তরা ইচ্ছা করলে স্পর্শ করতে পারেন। প্রায় পৌনে কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথে রথ মাঝেমধ্যে থামবে, সেই সময় দর্শনার্থীরা দেবতার দর্শন লাভ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, স্নানযাত্রার পর টানা ১৫ দিন ‘অনসরে’ ছিলেন জগন্নাথ দেব। এই সময় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। এই অনসরকাল শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছ’টায় গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এদিন ‘নবসাজে’ ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন প্রভু জগন্নাথ।
‘নেত্র উৎসব’ উপলক্ষে ভোরেই অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলারতি। পরে তাঁকে অর্পণ করা হয় ৫৬ ভোগ, যার মধ্যে ছিল খিচুড়ি, নানা রকম ডাল ও ভাজা, মোচা-পটল-বৈতালের নানা পদ, এবং বাংলার বিখ্যাত মিষ্টান্ন ও পায়েস। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে ‘রশি পুজো’। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও প্রশাসনের তরফে জানা গেছে।



