অর্থনীতি

সিগারেট-মদের দাম দ্বিগুণ? বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র, বিপাকে নেশাদ্রব্যের ক্রেতারা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সিগারেট-মদের দাম দ্বিগুণ? বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র, বিপাকে নেশাদ্রব্যের ক্রেতারা - West Bengal News 24

ধূমপান বা মদ্যপান যাঁরা করেন, তাঁদের জন্য আসতে চলেছে খারাপ খবর। খুব শীঘ্রই সিগারেট, তামাকজাত দ্রব্য এবং মদের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। এমনকি বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটি ব্যবস্থায় বড় রদবদল আনার চিন্তাভাবনা করছে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে, ‘নেশাজাত পণ্য’ ব্যবহারকারীদের সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আসলে, জিএসটি-তে ‘কমপেনসেশন সেস’-এর মেয়াদ শেষের পথে। সেই জায়গায় ‘হেলথ অ্যান্ড এনার্জি সেস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের। একইসঙ্গে ‘ক্লিন এনার্জি সেস’-ও চালু করা হতে পারে। ‘হেলথ অ্যান্ড এনার্জি সেস’ মূলত চাপানো হবে ‘সিন গুডস’, অর্থাৎ যেসব পণ্য স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর বলে বিবেচিত — যেমন মদ, সিগারেট, খৈনি, গুটকা ইত্যাদি তামাকজাত দ্রব্য।

এই ধরনের পণ্যগুলি বর্তমানে জিএসটি-র ২৮% স্ল্যাবে পড়ে। এর উপর যদি অতিরিক্ত সেস আরোপ করা হয়, তবে একধাক্কায় সেগুলোর দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিগারেটের দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

শুধু নেশাজাত দ্রব্য নয়, দামি গাড়ির ক্ষেত্রেও ‘ক্লিন এনার্জি সেস’ বসানো হতে পারে, যার পেছনে রয়েছে পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, পরিবেশবান্ধব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি চালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো, যাতে দূষণ কমানো যায়। তাই পেট্রোল-ডিজেলচালিত গাড়িগুলির উপর এই অতিরিক্ত সেস বসানো হতে পারে।

এই দু’টি সেস একসঙ্গে কার্যকর হলে, তামাকজাত দ্রব্য, মদ এবং বিলাসবহুল গাড়ির দাম একযোগে বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

তবে একদিকে যেমন এইসব পণ্যে বাড়তি খরচ পড়বে, অন্যদিকে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমতে পারে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র বলছে, আগামী জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এই পরিবর্তন হলে টুথপেস্ট, টুথ পাউডার, ছাতা, সেলাই মেশিন, প্রেশার কুকার, বাসনপত্র, ইলেকট্রিক ইস্ত্রি, কম ক্ষমতার ওয়াশিং মেশিন, বাইসাইকেল, ১ হাজার টাকার বেশি দামের কাপড়, ৫০০–১,০০০ টাকার মধ্যে জুতো, স্টেশনারি সামগ্রী, টিকা, সেরামিক টাইলস ইত্যাদির দাম কমে যেতে পারে।

সূত্রের মতে, এই রদবদলের ফলে সরকারের উপর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি চাপ পড়তে পারে। তবে, ওই অতিরিক্ত সেস থেকে আসা রাজস্ব দিয়েই সেই চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button