
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত জটিলতা। ইতিহাস পরীক্ষায় বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করার বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার বাতিল করা হল ষষ্ঠ সেমেস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষা।
শুক্রবার নির্ধারিত পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। সূত্রের খবর, প্রশ্নপত্রে সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার বিপ্লব চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণেই পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।”
এর আগেই, বুধবার ছিল ইতিহাস অনার্সের ষষ্ঠ সেমেস্টারের C14T পেপারের (Modern Nationalism in India) পরীক্ষা। সেই প্রশ্নপত্রে ‘ক’ বিভাগের ১২ নম্বর প্রশ্নে লেখা ছিল — ‘মেদিনীপুরের তিনজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম কর যারা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন?’
প্রশ্নটি ভাইরাল হতেই জেলার শিক্ষক মহলে শুরু হয় প্রবল প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন তোলা হয়, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কেন ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা হল? যাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেননি, তাঁদের এমন ভাষায় বর্ণনা করায় রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষক ও বিদ্বজ্জনেরা। প্রতিক্রিয়া দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারও।
বুধবারই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি “মুদ্রণ বিভ্রাটের” কারণে ঘটেছে। তবে তাতে বিতর্ক থামেনি। শহিদ প্রশস্তি সমিতির পক্ষ থেকে উপাচার্যকে ই-মেল করে জানানো হয় আপত্তির কথা। এরপর বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষমা চান।
তবে তার মধ্যেই আবার প্রশ্নপত্র বিভ্রাট ও পরীক্ষাবাতিলের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। শিক্ষামহলের একাংশের প্রশ্ন, বারবার এমন ভুল কেন হচ্ছে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই এখন উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।



