
স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) পক্ষে বড় জয় এল দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে। ২০১৬ সালের নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষার ‘ওএমআর’ প্রকাশের দাবিতে কিছু চাকরি-প্রার্থীর করা মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। ওই মামলাটি করেছিলেন চাকরি হারানো প্রার্থীদের একটি অংশ, যাঁরা সিবিআইয়ের রিপোর্টে ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত নন। তাঁদের দাবি ছিল, ‘ওএমআর’ প্রকাশ করলে পরিষ্কার বোঝা যাবে কারা প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী। মামলাকারীদের আইনজীবী আবেদন জানান, ‘ওএমআর’ প্রকাশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হাই কোর্টকে নিতে দেওয়া হোক।
কিন্তু শুক্রবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, ‘নতুন করে দরজা খোলার প্রয়োজন নেই’। তাদের পূর্ব নির্দেশ মোতাবেক এসএসসি ইতিমধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহেই এসএসসি ঘোষিত পরীক্ষার দিনক্ষণ অনুযায়ী, ‘৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম ও ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা হবে’। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিলের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগ বাতিল করে।
এরপর কমিশন ৩০ মে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করে। জানানো হয়, লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে ‘অক্টোবরের চতুর্থ সপ্তাহে’ এবং ‘নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে কাউন্সেলিং শুরু হওয়ার কথা’।
তবে, কিছু চাকরি হারানো প্রার্থী এখনও পরীক্ষা না দিয়েই সরাসরি চাকরিতে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছেন। সেই দাবিতে ফের সুপ্রিম কোর্টে যান ‘চিহ্নিত যোগ্য’ প্রার্থীদের একটি অংশ। তাঁদের বক্তব্য, যেহেতু তাঁরা দাগি নন, তাই ‘চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক’। একমাত্র ভরসা হিসাবে তুলে ধরেন ‘ওএমআর’ প্রকাশের প্রসঙ্গ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এখন থেকে এসএসসি সংক্রান্ত কোনও নতুন আবেদন আর শোনা হবে না।
যদিও এই রায়ের ফলে ‘দাগি’ আর ‘নন-দাগি’ প্রার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কিছু মহল।



