
সপ্তাহ শেষে বদলে গেল আবহাওয়ার ছবি। শনিবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল পরিষ্কার, দেখা মিলেছে উজ্জ্বল রোদের। তাহলে কি অবসান ঘটল নিম্নচাপজনিত দুর্যোগের? বৃষ্টিভেজা দিনগুলোর থেকে কি এবার স্বস্তি মিলবে? আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ধীরে ধীরে কমছে নিম্নচাপের প্রভাব। যদিও কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছেই। আগামী মঙ্গলবার থেকে আবার একবার আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে বলেও পূর্বাভাস।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, “গভীর নিম্নচাপ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পেরিয়ে উত্তর ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড এলাকায় ঢুকেছে।” এখন এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে সরে গিয়ে ছত্তিশগড়ের দিকে এগোবে এবং ধীরে ধীরে তার শক্তি হারিয়ে “সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে।” পাশাপাশি, ‘মৌসুমী অক্ষরেখা জম্মু, চণ্ডীগড়, শাহজাহানপুর, গোরক্ষপুর, পাটনা, রাঁচির পর নিম্নচাপ এলাকার উপর দিয়ে দিঘা হয়ে দক্ষিণ পূর্ব দিকে গিয়ে নিম্নচাপের এলাকা অর্থাৎ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।’
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পরিমাণ ও প্রভাব খানিকটা কমতে পারে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় শনিবার বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার বর্ষা দেখা দিতে পারে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। আবার সোমবার বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায়। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে “ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়।” এদিন বৃষ্টিতে ভিজতে পারে কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমান। বুধ ও বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদেও।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও আলাদা নয়। শনিবার বৃষ্টি হতে পারে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে। রবিবার “দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।” সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও একই রকম বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
বৃষ্টির ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমেছে তাপমাত্রা। শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০.১ ডিগ্রি। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ‘৯২ থেকে ১০০ শতাংশ’, এবং ‘বৃষ্টি হয়েছে ৭৫.৪ মিলিমিটার’। আর্দ্রতার পরিমাণ ‘১০০ শতাংশ’ হওয়ায়, বৃষ্টি কমলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থেকে নিস্তার মিলবে না বলেই আশঙ্কা।



