
২০১০ সালের অক্টোবরে চালু হয়েছিল কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন। তবে ১৫ বছরের মধ্যেই আপ লাইনের চারটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম ও লাইনে বসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে স্টেশনটিকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্রের দাবি, সংস্কারের জন্য স্টেশনটি প্রায় এক বছর বন্ধ থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাটির নিচে থাকা বহু পুরনো মেট্রো স্টেশনেও এতবড় সমস্যা দেখা যায়নি। মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে স্টেশন নির্মাণস্থলের প্রকৃতি। ওই এলাকা একসময় জলাভূমি ছিল, ফলে নরম মাটির উপর নির্মিত পিলারগুলির কাঠামোগত দুর্বলতা আগেই ছিল। মেট্রোর এক আধিকারিক বলেন, “এই ধরনের ফাটল তো একদিনে হয়নি। কিন্তু বিষয়টির গুরুত্ব হয়তো সঠিক সময়ে আন্দাজ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।”
জানা গিয়েছে, কবি সুভাষ স্টেশনের সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে। পুজোর পরে সেই কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রবল বৃষ্টিতে ফাটল আরও বাড়ে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির চাপেই এমন অবস্থা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেও স্টেশনটি বন্ধ থাকায় মেট্রো পরিষেবা শুধুমাত্র শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত সীমিত রাখা হয়। স্টেশনটি কবে পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। বহু যাত্রী যাঁরা নিউ গড়িয়া মেট্রো থেকে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ট্রেন ধরেন, তাঁরা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই কবি সুভাষ স্টেশন বন্ধ থাকার কথা না জেনে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
তাঁদের বক্তব্য, “এই দুর্ভোগ কতদিন চলবে কে জানে! সবে তো শুরু।” বেশ কিছুদিন ধরেই নিউ গড়িয়া স্টেশনে সমস্যার আভাস মিলছিল। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল, পুজোর পর কাজ শুরু হবে। কিন্তু টানা বৃষ্টির ফলে একাধিক পিলারে ফাটল এবং প্ল্যাটফর্মের অংশ বসে যাওয়ায় আগেভাগেই স্টেশন বন্ধ করতে হয়। সংস্কারে কতদিন সময় লাগবে তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। যদিও মেট্রো রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ওভারগ্রাউন্ড স্টেশন ও অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরেই এই ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি এবং ‘হেলথ মনিটরিং’ যথাযথভাবে করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



