শুল্ক চাপের হুমকির মাঝেও রাশিয়া সফরে ডোভাল, তেল চুক্তিতে বড় অগ্রগতির ইঙ্গিত
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ঘিরে ফের ভারতকে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। ভারত-মার্কিন উত্তেজনার আবহেই রাশিয়া সফরে তাঁর উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। অনুমান, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে বড় কোনও চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সেইমতো মঙ্গলবার রাতেই মস্কোয় পৌঁছেছেন ডোভাল। সফরের মুখ্য লক্ষ্য, ভারত-রাশিয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন অসন্তোষ এই সফরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছুদিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “বাণিজ্যের জন্য ভারত ভালো অংশীদার নয়। তারা আমাদের সঙ্গে যথেষ্ট বাণিজ্য করে। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করি না। তাই ভারতের উপর আমরা ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলাম। কিন্তু আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তা বৃদ্ধি করা হবে। কারণ, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এবং তারা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করছে।” এই মন্তব্যের জবাবে ভারতও কড়া সুরে জানিয়ে দেয়, আমেরিকাই বিপুল পরিমাণ পণ্য রাশিয়া থেকে আমদানি করে, তাই ভারতকে নীতির পাঠ দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
এই টানাপড়েনের মধ্যেই ডোভালের সফর নিয়ে বিশেষ নজর দিচ্ছে কূটনৈতিক মহল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে তেল কেনা সংক্রান্ত একটি বড় চুক্তি সামনে আসতে পারে, যেখানে ভারতকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকা যেখানে ভারতের উপর শুল্ক চাপাচ্ছে, সেখানে রাশিয়া পাল্টা বার্তা দিতে চাইছে— যে কোনও তৃতীয় পক্ষ ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারবে না। এই আবহে ডোভালের সফরের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে চলতি মাসেই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।
অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে শুধু জ্বালানি নয়, সার, খনিজ, রাসায়নিক, ইস্পাত-সহ বহু সামগ্রী আমদানি-রফতানি হয়। শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকাও বিভিন্ন প্রয়োজনে রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানি করে। তারা নিজেদের পারমাণবিক কার্যকলাপের জন্য রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড কেনে। বৈদ্যুতিন গাড়ি শিল্পের জন্য প্যালাডিয়াম, সার ও রাসায়নিক আমদানি করে।



