চিনও কিনছে রুশ তেল, তবু শুধু ভারতকেই লক্ষ্য কেন? ট্রাম্পের ফের শুল্ক বাড়ানোর হুমকি
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাশিয়ার কাছ থেকে একাধিক দেশ তেল আমদানি করলেও শুধু ভারতের উপরেই কেন অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হচ্ছে— এই প্রশ্নে বুধবার কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করে নয়াদিল্লি। এবার একই প্রশ্ন তোলা হল হোয়াইট হাউসে, এক সাংবাদিকের তরফে। আর সেই প্রশ্নের উত্তরে ফের কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার ট্রাম্প জানিয়ে দেন, ভারতের আমদানিকৃত পণ্যের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তাঁর যুক্তি, ভারত এখনও রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, তাই এই অতিরিক্ত শুল্ক তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করে ট্রাম্প জানান, এই নতুন শুল্কহার ২১ দিন পর থেকে কার্যকর হবে। সেখানে বলা হয়েছে, “প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ভারত বর্তমানে রুশ তেল আমদানি করছে। তাই আমার মনে হয় ভারতের উপর আরও বেশি শুল্ক চাপানো দরকার।”
এই ঘোষণার পর ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এক বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, ‘গত কয়েকদিন ধরে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়টিকে টার্গেট করেছে আমেরিকা। এই বিষয়ে আমরা নিজেদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি। বাজারের পরিস্থিতি এবং দেশের ১৪০ কোটি মানুষের শক্তিসম্পদের চাহিদার দিকে নজর রেখে আমদানি করা হয়। অন্য বহু দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবে একই কাজ করছে। কিন্তু আমেরিকা কেবল ভারতের উপরেই অতিরিক্ত শুল্ক চাপাচ্ছে, এটা যথেষ্ট দুর্ভাগ্য়জনক।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়েও বিষয়টি উঠে আসে। ট্রাম্প বলেন, “সবেমাত্র কয়েক ঘণ্টা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তবে এখনও অনেক কিছু হবে। আরও বেশ কয়েকটি দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হবে, চাপানো হতে পারে নিষেধাজ্ঞাও।”
বিশ্লেষকদের অভিমত, চিনসহ আরও কয়েকটি রাশিয়ান তেল আমদানিকারক দেশের প্রতিও ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। তবে ভারতের উপর শুল্ক দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তে মার্কিন রাজনীতিতে চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। অনেকের মতে, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে তার প্রভাব চিন মোকাবিলার কৌশলে পড়তে পারে, যা আমেরিকার জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।



