শোভাবাজার রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনায় নেপথ্যে ছিলেন লর্ড ক্লাইভ! জানুন সেই ইতিহাস
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

এখনকার দিনে কলকাতার দুর্গাপুজো মানেই থিমের ঝলকানি। প্রতিবছর নতুন নতুন থিমে ভরপুর থাকে শহরের পুজো। তবে এই ভিড়ের মধ্যেও বাড়ির পুজোগুলোর আলাদা কদর রয়েছে। সেই তালিকায় অন্যতম শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো। কলকাতার অলিগলিতে যেমন ভক্তদের ঢল নামে, তেমনই রাজবাড়ির ঠাকুরদালানেও পাঁচদিন ধরে ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু কবে থেকে শুরু হয়েছিল এই জমজমাট পুজো?
পলাশির যুদ্ধের পর, ১৭৫৭ সালে রাজা নবকৃষ্ণ দেব প্রথম শোভাবাজার রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। আজও সেই প্রাচীন পুজো চলছে একই নিয়ম মেনে। যদিও পরবর্তী সময়ে সম্পত্তি ভাগাভাগির ফলে রাজবাড়িতে শুরু হয় দুটি আলাদা দুর্গাপুজো। আড়াইশো বছরেরও পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর সূত্র খুঁজতে হলে ফিরতে হবে ইতিহাসের পাতায়।
জুলাই ১৭৫৭-য় পলাশির যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর ইংরেজরা বিজয়োৎসব করতে চায়। আর সেই আয়োজনের দায়িত্ব পড়ে লর্ড ক্লাইভের ঘনিষ্ঠ মুন্সি নবকৃষ্ণ দেবের ওপর। অল্প সময়েই রাজবাড়িতে গড়ে ওঠে ঠাকুরদালান। সেখানে শুরু হয় আড়ম্বরপূর্ণ দুর্গাপুজো। অনেকেই মনে করেন, নবকৃষ্ণ দেবের দুর্গাপুজো আসলে পলাশির বিজয়েরই উদযাপন। সেই পুজোয় উপস্থিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, এমনকি লর্ড ক্লাইভও। আয়োজনের মধ্যে ছিল নাচ-গান, ভোজসভা, ইংরেজ সাহেবদের জন্য বিশেষ পানভোজন। তবু পুজোর নিয়মকানুন সম্পূর্ণ শাস্ত্র মেনেই সম্পন্ন হয়েছিল।

দীর্ঘ ৩৬ বছর নবকৃষ্ণের কোনও সন্তান হয়নি। শেষমেশ ১৭৬৮ সালে তিনি দাদার ছেলে গোপীমোহনকে দত্তক নেন। তার ১৩ বছর পর পঞ্চম রানি জন্ম দেন রাজকৃষ্ণকে। জ্যোতিষীদের মতে, উত্তর দিকের বাড়ি রাজকুমারের জন্য অশুভ। তাই নবকৃষ্ণ দক্ষিণমুখী ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করান, সঙ্গে তৈরি হয় নতুন ঠাকুরদালান। প্রথমে উত্তর দিকের বাড়িতে দুর্গাপুজো চললেও ১৭৯০ সালে দক্ষিণ দিকেও পুজো শুরু হয়। সেই বছরেই গোপীমোহন ও রাজকৃষ্ণের মধ্যে সম্পত্তি বিভাজন হয়। তারপর থেকে উত্তর দিকের পুজো পরিচিত হয় রাধাকান্ত দেবের নামে, আর দক্ষিণ দিকেরটি রাজকৃষ্ণ দেবের নামে।
প্রায় আড়াইশো বছরের পুরোনো এই সাবেকি পুজো আজও সমান জনপ্রিয়। পুজোর দিনে ঠাকুরদালানে উপচে পড়ে ভক্তসমাগম। এখানে কোনও থিম নেই, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিনোদন ও আচার-বিধিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এই রাজবাড়ির পুজো শুধু ঐতিহ্যের নিদর্শন নয়, অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত বাঙালির সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবেও পরিচিত।



