
সিবিআইয়ের পরে এবার ইডির ফাঁদে পড়লেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। তাঁর দাবি, এই গ্রেপ্তারির নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত। সোমবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা শেষে বেরনোর সময় তিনি এ কথা জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে, সত্যিই কি তিনি ইডিকে দেখে পালাতে চেয়েছিলেন? কিংবা মোবাইল ফোন পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন? দুই প্রশ্নের জবাবেই তিনি দেন ‘না’। পাশাপাশি তিনি নিজেকে ‘চক্রান্তের শিকার’ বলেও দাবি করেন। চিকিৎসা পরীক্ষার পর তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, ইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় দু’বছর আগে জীবনকৃষ্ণ সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেসময় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করা হয়। অভিযোগ, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তিনি মোবাইল ফোন বাড়ির পিছনের পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন, যদিও তা সত্ত্বেও শেষমেশ ধরা পড়েন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে এলাকার বহু মানুষের চাকরির সুপারিশ করেছিলেন এবং অর্থের বিনিময়ে সেই নিয়োগও হয়েছিল। সিবিআইয়ের দাবি, তাঁর বাড়ি থেকেও বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিন পান তিনি।
সোমবার সকালে এসএসসি মামলার তদন্তে ফের তাঁর বাড়িতে যায় ইডি। সূত্রের খবর, এ বারও তিনি ইডিকে দেখে পালাতে চেয়েছিলেন এবং দু’বছর আগেকার ‘চিত্রনাট্য’ মেনে মোবাইল ছুড়ে ফেলেছিলেন পুকুরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি। তাঁকে ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ইডি আধিকারিকরাও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সূত্র জানাচ্ছে, দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা জেরা করেও কোনও সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি।



