মেয়ো রোডে তৃণমূলের ‘ভাষা আন্দোলন’ মঞ্চ খুলে দেওয়ায় উত্তাল রাজনীতি, রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক মমতার
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভাষা সন্ত্রাসের প্রতিবাদে মেয়ো রোডে তৃণমূলের ধরণা কর্মসূচিতে আচমকা বাধা সেনার। সোমবার হঠাৎ খবর আসে, সেনা জওয়ানরা এসে ‘ভাষা আন্দোলন’ মঞ্চ খুলে দিয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন। ঘোষণা করেন, মঙ্গলবার থেকে জেলার প্রতিটি ব্লক, ওয়ার্ড এবং মহকুমায় তৃণমূলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা মিছিলে অংশ নেবেন।
ভিনরাজ্যে বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহে অত্যাচারের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনীতি সরগরম। সেই ইস্যুতেই আন্দোলনের পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম, বোলপুর—অসংখ্য জায়গায় তিনি নিজে মিছিল করেছেন। পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে রাজ্য সরকার চালু করেছে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে বাংলায় ফেরা শ্রমিকরা এক বছরের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। এ ছাড়াও মমতার নির্দেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শনি ও রবিবার ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে চলছিল তৃণমূলের রিলে অবস্থান, সেখানেই তৈরি হয়েছিল ‘ভাষা আন্দোলন’ মঞ্চ।
কিন্তু সোমবার আচমকা সেনার একটি দল মেয়ো রোডে এসে মঞ্চ খুলে দেয় এবং সেখানে থাকা ত্রিপলও সরিয়ে ফেলে। এর পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর দোষ নেই। তারা আমাদের বন্ধু। বিজেপির কথায় তাঁরা এই কাজ করেছে। বিজেপি সেনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করছে।” পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন তিনি—তৃণমূলকে না জানিয়েই কেন এমন পদক্ষেপ করা হল? তাঁর মন্তব্য, “আপত্তিজনক কিছু থাকলে আমরা নিজেরাই মঞ্চ খুলে দিতাম।”
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা ঘোষণা করেন, মঙ্গলবার রাজ্যের সর্বত্র প্রতিবাদ মিছিল হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ‘ভাষা আন্দোলন’ মঞ্চ স্থানান্তর করে রানি রাসমণি রোডে নেওয়া হবে এবং সেখানেই অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরনা কর্মসূচি চলবে।



