আন্তর্জাতিক

নেপালে সংসদ দখল! ওলি সরকারের পতনের ঘণ্টা কি বেজে গেল?

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Nepal Protest : নেপালে সংসদ দখল! ওলি সরকারের পতনের ঘণ্টা কি বেজে গেল? - West Bengal News 24

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় গণঅভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রপতির বাসভবনে ঢুকে পড়েছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। গত বছর ‘জুলাই বিপ্লবে’ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও নেমে এসেছিল আমূল পরিবর্তন, ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এবার কি সেই একই পরিণতি নেপালের কেপি শর্মা ওলি সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে? শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের মতোই এবার কাঠমান্ডুতেও সংসদ ভবনে হানা দিল উত্তেজিত তরুণরা। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর ধোঁয়ায় ছেয়ে গেল দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন। ভেতরে কাচ-জানলায় বৃষ্টির মতো ইট-পাথর ছুঁড়ল বিক্ষোভকারীরা। সংসদের করিডর থেকে ছাদ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের দখলে চলে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীদের দেখা মিলছে না বললেই চলে। আক্রমণের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

কেপি শর্মা ওলির সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। তার মধ্যে সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-সহ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধের সিদ্ধান্ত ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে। তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমে সরব হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। উত্তেজিত জনতার একাংশ সংসদ ভবনে ঢুকে পড়ে। পুলিশ লাঠিচার্জ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় জারি হয় কারফিউ। সেনা নামানো হলেও সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

সংসদ ভবনে হামলার পর প্রশাসন রাষ্ট্রপতির বাসভবন ‘শীতল নিবাস’, উপরাষ্ট্রপতির আবাসন লেইনচৌর ও প্রধানমন্ত্রী ওলির বালুওয়াটারের সরকারি বাসভবনে কড়া নিরাপত্তা জারি করেছে। কাঠমান্ডুতে দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকলেও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে প্রতিবাদীরা।

এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি নিয়ে প্রবল ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। শেষমেশ ক্ষমতাচ্যুত হয় গোঠাভয় রাজাপক্ষ সরকার। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকারও ক্ষমতা হারায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপালেও দুর্নীতি ও সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, নেপালে নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মের তালিকায় রয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স, লিঙ্কডইন, রেডিট, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট প্রভৃতি। নেপালের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সরকারের কাছে নথিভুক্ত হতে হবে, যাতে অবাঞ্ছিত কনটেন্টের উপর নজরদারি চালানো যায়। তবে সব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হয়নি। টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবুজ, টেলিগ্রাম ও গ্লোবাল ডায়রি এখনও চালু রয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button