
রাজনীতির নানা কাজকর্ম সামলানোর ফাঁকেই বাড়ির দুর্গাপুজোকে ঘিরে ব্যস্ত অনুব্রত মণ্ডল। দলের সংগঠনের বড় দায়িত্ব তাঁর কাঁধে, প্রতিদিন কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, শুনছেন সাধারণ মানুষের নানা অভিযোগও। তবুও ঘরে দুর্গা আসার আনন্দে তিনি কোনও ত্রুটি রাখছেন না। যদিও গ্রামে যেতে পারছেন না, তবুও ফোনে খোঁজখবর নিচ্ছেন নিয়মিত। মণ্ডল পরিবারের সবাই এখন পুজোর কাজে ডুবে আছেন, যেন খাওয়া-দাওয়ার কথাও ভুলে গিয়েছেন।
বীরভূমের হাটসেরান্দি গ্রামে অবস্থিত মণ্ডল বাড়ির বয়স ১৪৩ বছর। অনুব্রতর প্রপিতামহ গৌরহরি মণ্ডল ওপার বাংলা থেকে এসে নানুরে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সারা বছর মন্দিরে পিতলের দুর্গামূর্তি পূজিত হয়। স্থানীয়ভাবে এই পুজোকে আদি দুর্গাপুজো হিসেবেই মানা হয়। দুর্গামন্দিরের পাশাপাশি রয়েছে শিবমন্দিরও, যেখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলে।
বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেখা গেল, মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা গড়ার কাজে ব্যস্ত। ঘরদোর পরিষ্কার চলছে জোরকদমে। মন্দিরের দেওয়ালে লেগেছে নতুন রং। পরিবারে সবারই এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। এ বছর যেন প্রস্তুতিতে বাড়তি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
অনুব্রতর গ্রামে মোট ১৮টি দুর্গাপুজো হলেও তাঁর বাড়ির পুজো ঘিরে উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি। পুজোর দিনগুলোতে নেতা-মন্ত্রীদের যাতায়াতও নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। আগে প্রতি বছর তিনি নিজে উপস্থিত থেকে পুজো মাতাতেন। তবে গরু পাচার মামলায় তিহার জেলে থাকাকালীন উৎসবের আবহ কিছুটা নিস্তেজ ছিল। এখন আবার স্বমহিমায় ফেরার পর বাড়ির পুজোতেও আনন্দের রং ফিরে এসেছে।
চারদিন ধরে শুধু পূজাই নয়, চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ঘরোয়া আয়োজন। গ্রামবাসীদের জন্য প্রতিদিনের ভুরিভোজও থাকে বাড়তি আকর্ষণ। অনুব্রত জানালেন, “পুজোয় গ্রামের বাড়িতে থাকব। গ্রামবাসীদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হলে ভালোই লাগে।” অনুব্রতর ভাই প্রিয়ব্রত মণ্ডলও জানিয়েছেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও সমস্ত আচার-আচরণ মেনেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে।’
আশ্বিনের আগমনী হাওয়া মণ্ডল বাড়ির ঠাকুর দালানে ছড়িয়ে দিয়েছে অন্যরকম আবহ। বাতাসে ভাসছে পাটের আঁশটে গন্ধ, আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ। শিল্পীরা মায়ের প্রতিমায় দিচ্ছেন মাটির শেষ ছোঁয়া। মা দুর্গা আসতে যে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি!



