রাজ্য

‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’ চেতলা অগ্রণী, রুদ্রাক্ষের মণ্ডপসজ্জায় বাংলার অপমানের প্রতিবাদ

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’ চেতলা অগ্রণী, রুদ্রাক্ষের মণ্ডপসজ্জায় বাংলার অপমানের প্রতিবাদ - West Bengal News 24

চেতলা অগ্রণীর এবারের দুর্গাপুজোতে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ রুদ্রাক্ষ। এই বিপুল পরিমাণ রুদ্রাক্ষ এসেছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, নেপাল ছাড়াও বেনারস ও উত্তরকাশী থেকে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পুজো চেতলা অগ্রণীর এই থিমে কাজ করছেন বাংলার পাঁচটি জেলার ২০০ শিল্পী, যাঁরা বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে রুদ্রাক্ষ দিয়ে অভিনব মণ্ডপ গড়ে তুলছেন।

ফেব্রুয়ারি থেকে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হলেও গত দু’মাসে টানা বৃষ্টির জন্য কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। প্রয়াত সাহিত্যিক সমরেশ বসুর জন্মশতবর্ষে ‘জ্ঞানমন্থনের প্রয়াসে- অমৃতকুম্ভের সন্ধানে’ থিমের মাধ্যমে বাংলার প্রতি অবমাননার বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। শুক্রবার নিজের পুজো নিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “মহালয়ার দিন বিশ্বজননীর চক্ষুদান করবেন বঙ্গজননী জননেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দশর্কদের জন্য পুজোমণ্ডপ ও মাতৃপ্রতিমা দর্শনের সুযোগ থাকছে ২৪ তারিখ থেকে। কারণ, এখনও মণ্ডপের অনেক কাজ বাকি রয়েছে।”

থিমশিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “মেয়র উদ্যোগী হয়ে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, মেদিনীপুর-সহ পাঁচ জেলার ২০০ শিল্পীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন। তাঁরাই মণ্ডপ গড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।” বেনারসের সাধুদের থেকে রুদ্রাক্ষ নিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনিও শোনা হয়েছে। তাঁর কথায়, ত্রিপরাশুরকে বিনাশ করার সময় রুদ্র অর্থাৎ শিবের চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়েছিল। সেখান থেকেই রুদ্রাক্ষের উৎপত্তি। সেই পৌরাণিক ঘটনাই মণ্ডপের বাইরে শিল্পীর কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, “দুর্গাপুজো শুধুমাত্র বাঙালির উৎসব নয়। ইউনেসকো পুজোকে ‘ইনটেনজেবল হেরিটেজ’ তকমা দিয়েছেন। যার নেপথ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন এই বাংলার উৎসবকে। বাংলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কলকাতায় আসা একেকজন কারিগর তিনমাস পরিশ্রমের পর ৫০-৬০ হাজার টাকা বাড়ি নিয়ে যান। এর থেকে বড় উৎসব আর কী হতে পারে?”

ক্লাবের কার্যকরী সভাপতি সব্যসাচী রায়চৌধুরীর মতে, “পুলিশের হিসাবেই গতবছর অগ্রণীর পুজো দেখতে এক কোটি দর্শনার্থী এসেছিলেন, এ বছর বাংলা-বাঙালির প্রতিবাদের টানে রুদ্রাক্ষের মণ্ডপে দেড় কোটি পেরিয়ে যাবে।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button