
‘ভোটচুরি বন্ধ না হলে ভারতেও নেপাল হবে’—সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবার তিনি বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে দাবি করেন, অযোধ্যা উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং ৫০০০ জনকে বাইরে থেকে এনে ভোট দেওয়ানো হয়েছে।
অখিলেশ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের উচিত ভোট যাতে চুরি না হয় তা নিশ্চিত করা। কমিশনকে ভোটচুরি ও ডাকাতি রুখতে হবে।” কুন্দারকি, রামপুর ও মীরাপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, “যখন ওরা ভোটচুরি করতে পারেনি তখন রিভলভার বের করে ভোট বন্ধ করেছে।” এরপর অযোধ্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি যোগ করেন, “অযোধ্যাতে ৫০০০ মানুষ বাইরে থেকে এসে ভোট দিয়েছেন। একজন মন্ত্রীর সহযোগী ধরা পড়েছিল। আমার বক্তব্য স্পষ্ট যদি এভাবে ভোট ডাকাতি চলতে থাকে, তাহলে এখানকার মানুষও প্রতিবেশী দেশগুলির পথে হাঁটতে পারে। দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে পড়তে পারেন।”
সম্প্রতি নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে ‘জেন জি’ প্রজন্ম ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। একাধিক সরকারি ভবনে আগুন লাগানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ওলি-সহ পুরো মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর আগে বাংলাদেশেও কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে সরকার পতন হয়েছিল। অখিলেশের বক্তব্যে সেই ঘটনাগুলির সঙ্গে তুলনা টেনে ভারতের পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, গত মাসে রাহুল গান্ধীও একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে দেশে বিভিন্নভাবে ‘ভোটচুরি’ হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, বিজেপি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কমিশনের সহযোগিতায় একাধিক আসনে জিতেছে। এমন অভিযোগের পাল্টা দিয়ে কমিশন সাংবাদিক বৈঠক করে জানায়, ‘ভোটচুরি’র মতো শব্দ ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এবার একই অভিযোগ তুললেন অখিলেশ, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।



