
ধসের জেরে টানা তিন সপ্তাহ বন্ধ কাশ্মীরের শ্রীনগর-জম্মু হাইওয়ে। ফলে ট্রাকে আটকে পড়ে পচে গিয়েছে কয়েকশো কোটি টাকার আপেল। ব্যবসায়ীদের দাবি, অন্তত ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। দীর্ঘদিন ধরে আপেল বাইরে পাঠানো বন্ধ থাকায় চরম সঙ্কটে পড়েছেন উপত্যকার চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
চলতি বর্ষায় উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যেই দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, রাজস্থান—সব জায়গায় অতিবৃষ্টি ও ধস পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। কাশ্মীরও এর ব্যতিক্রম নয়। ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে যায় শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক। সেখানে টানা তিন সপ্তাহ ধরে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার ট্রাক, যেগুলোতে বোঝাই কয়েক হাজার টন আপেল। সাধারণত মরশুমে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ট্রাক আপেল কাশ্মীর থেকে দেশের অন্যান্য প্রান্তে পাঠানো হয়। আপেল পরিবহণে বিকল্প হিসেবে ট্রেন পরিষেবা চালু হলেও তা চাহিদা মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়।
ফলে ট্রাকভর্তি আপেল পচে গিয়ে ক্ষতির অঙ্ক পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৭০০ থেকে ১,০০০ কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রভাব পড়বে জম্মু-কাশ্মীরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে। দেশের মোট আপেল উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এখান থেকেই, যার উপর নির্ভর করে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা। এ অবস্থায় চাষি থেকে ব্যবসায়ী—সবাই চরম আর্থিক সঙ্কটে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এত বড় ক্ষতি হল।
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, হাইওয়ে মেরামতের দায়িত্ব কেন্দ্রের। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র না পারলে দায়িত্ব রাজ্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর খেলায় পড়েছে সাধারণ চাষি-ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আক্ষেপ, প্রচুর ফলন হয়েও ধসের কারণে ব্যবসায় ভরাডুবি হল। প্রশ্ন উঠছে—ক্ষতির ক্ষতিপূরণ কি দেবে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার?



