
বাংলার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া অর্থ না মেলাতেই শাসকদল বারবার অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন—সব ক্ষেত্রেই কাজ হওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের কোষাগারে টাকা আসেনি বলে দাবি তৃণমূলের। ফলে পুজোর মরশুমেও কেন্দ্রীয় সাহায্য থেকে ‘বঞ্চিত’ বাংলা। তবে অন্যদিকে, বাঙালির ‘মন জয়ে’ এবার ভিন্ন পথে উদ্যোগী কেন্দ্র।
দুর্গোৎসবের আগে আগাম বেতন পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা। চলতি মাসের ২৬ তারিখেই তাঁদের বেতন দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। যদিও বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ক্ষত ঢাকতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র।
এবার দুর্গাপুজো শুরু হচ্ছে ২৮ সেপ্টেম্বর, রবিবার থেকে। ওই দিন ষষ্ঠীতে দেবীর বোধন হবে এবং মাসের শেষে মিলবে বিজয়ার বিষণ্নতা। উৎসবের মরশুমে খালি হাতে থাকলে চলবে না, এই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্র। তাই ২৬ তারিখেই বেতন অগ্রিম দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় কর্মীদের।
এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুকান্ত মজুমদারের পোস্টে লেখা রয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২৫, শুক্রবারেই প্রদানের যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকার গ্রহণ করেছে, তার জন্য ভারতবর্ষের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী সম্মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদীজিকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব, প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজার আগে এই উদ্যোগ শুধু বাংলার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অর্থনৈতিক স্বস্তিই নয়, বাঙালি আবেগেরও এক অনন্য সম্মান। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করলো, বাঙালির সুখ-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে কেন্দ্রীয় সরকার আন্তরিকভাবে পাশে রয়েছে এবং বাংলার সংস্কৃতি ও অনুভূতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাও নিবেদন করে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক হলেও এর নেপথ্যে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক কৌশল। নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও আবেগে নিজেদের মিশিয়ে দিতে চাইছে। ইতিমধ্যেই একাধিকবার তাঁকে দুর্গা বা কালীর পূজায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মঞ্চেও স্থান পেয়েছে বাংলার পূজিত দেবদেবীর ছবি। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখেই বাঙালির হৃদয় জয় করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের আগাম বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও সেই রাজনৈতিক সমীকরণের অঙ্গ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।



