
দেশের করব্যবস্থা সহজ করা ও আর্থিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে সোমবার সকাল থেকে চালু হল নতুন জিএসটি কাঠামো। পুরনো নিয়মের পরিবর্তে রাখা হয়েছে মাত্র দুটি স্ল্যাব—৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। এই পরিবর্তনের ফলে দুধ, পনির, ঘি, সাবান, শ্যাম্পুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আগের তুলনায় সস্তা হতে চলেছে। এমনকি এসি ও গাড়ির মতো পণ্যের দামও কমবে। পাশাপাশি কিছু জিনিসকে সম্পূর্ণ করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, নতুন কাঠামোয় কী কী পরিবর্তন এল।
৫৬ তম জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকের পর ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, আগে যেখানে করহার ছিল ৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশ, সেখানে এখন কেবল ৫ ও ১৮ শতাংশ থাকবে। তবে তামাকজাত দ্রব্য, পান মশলা, নরম পানীয়, দামি গাড়ি, ইয়ট ও ব্যক্তিগত বিমানের মতো বিলাসবহুল সামগ্রীর ক্ষেত্রে ধার্য হবে ৪০ শতাংশ কর। অন্যদিকে, টাটকা ফল, সবজি, রুটি, পরোটা, ছানা ও পনিরকে রাখা হয়েছে করমুক্ত তালিকায়। জীবনরক্ষাকারী ৩৩টি ওষুধও থাকছে এই ছাড়ের আওতায়। আগে যেখানে স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামে ১৮ শতাংশ কর দিতে হত, এখন তা আর দিতে হবে না। টিভি, এসি, ছোট গাড়ি, ৩৫০ সিসি পর্যন্ত মোটরবাইক, থ্রি-হুইলার ও অটো পার্টসের ক্ষেত্রেও করহার কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ শতাংশে।
হোটেল বুকিং, প্রসাধনী ও স্বাস্থ্যপণ্য কেনায় জিএসটির হার কমানো হয়েছে ১৮ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে। সিনেমার টিকিটের ক্ষেত্রেও বড় বদল এসেছে—১০০ টাকার নিচে হলে কর দিতে হবে মাত্র ৫ শতাংশ, আর টিকিটের দাম ১০০ টাকার বেশি হলে করহার হবে ১৮ শতাংশ। এর বাইরে সোনা, রুপো, হীরে ও দামি রত্নপাথরের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ৩ শতাংশ করের স্ল্যাব।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা হল, দোকানে থাকা পুরনো স্টকও নতুন হারে বিক্রি করতে হবে। পণ্যের এমআরপি বেশি লেখা থাকলেও ক্রেতাদের কাছে বর্তমান হারে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) সব ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাকে নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী এমআরপি আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছে। কোনও বিক্রেতা যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেয়, সেক্ষেত্রে ভোক্তারা ন্যাশনাল কনজিউমার হেল্পলাইনে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোকানির জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডও হতে পারে।



