ব্যাট কেনার টাকা ছিল না! ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ছেলের ব্যাটে এশিয়া কাপ জয় ভারতের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

হায়দরাবাদের ছেলে তিলক বর্মার গল্পটা সংগ্রামের। ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ঘর থেকে উঠে এসে ভারতকে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং ঝড়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়াসেরা হয়েছে সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের স্বপ্ন দেখলেও অর্থাভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। এমনকি একসময় ব্যাট কেনার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের।
তিলকের বাবা নম্বুরি নাগারাজু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, মা গায়ত্রীদেবী গৃহিণী। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও বাবার ক্রিকেটার বানানোর ইচ্ছেতেই গড়ে ওঠেন তিলক। ছোটবেলায় হাতে ওঠে বাবার দেওয়া প্লাস্টিক ব্যাট। সেই ব্যাটই হয়ে উঠেছিল তাঁর কাছে আসল উইলো। সেই খেলনা ব্যাট নিয়েই ঘুমিয়ে পড়তেন তিনি।
ক্রিকেট জীবনের বাঁক বদল আসে কোচ সালাম বায়াশের হাত ধরে। মাত্র ১১ বছর বয়সে টেনিস বলের ম্যাচে তাঁর শট দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কোচ। সেখান থেকেই শুরু নিয়মিত প্রশিক্ষণ। শুধু উৎসাহ নয়, বায়াশ তিলকের খাবার থেকে শুরু করে ক্রিকেটের সরঞ্জাম—সব কিছুর খরচই সামলাতেন। আজও কোচের মুখে একই কথা শোনা যায়, ‘কোনও চিন্তা নেই, আমি তো আছি।’
তিলকের প্রশিক্ষণের জায়গা ছিল হায়দরাবাদের লিঙ্গামপল্লির একটি অ্যাকাডেমি, যা তাঁর বাড়ি চন্দ্রায়ণ গুট্টা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন ভোর ৫টায় বায়াশ তাঁকে বাইকে করে নিয়ে যেতেন। ক্লান্তিতে মাঝেমধ্যে তিলক বাইকেই ঘুমিয়ে পড়তেন। তবুও অনুশীলনে কখনও ফাঁকি দেননি।
এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল মিলল এশিয়া কাপ ফাইনালে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৩ বলে অপরাজিত ৬৯ রান করে ভারতকে জিতিয়ে নায়ক হয়ে উঠলেন তিলক বর্মা। ছোটবেলার স্বপ্নের প্লাস্টিক ব্যাট হাতে নেওয়া সেই ছেলেই আজ টিম ইন্ডিয়ার গর্ব।



