রতন টাটার মৃত্যুর পর টাটা গোষ্ঠীতে অস্থিরতা, পার্সি পরিবারের দ্বন্দ্বে উদ্বিগ্ন কেন্দ্র
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপে (Tata Group) রতন টাটার মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন। তাঁর রেখে যাওয়া বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার ও নেতৃত্ব নিয়ে এখন তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে টাটা ট্রাস্ট (Tata Trust) ও টাটা সনস (Tata Sons)-এর মধ্যে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারও হস্তক্ষেপে নেমেছে।
সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) ও গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) মঙ্গলবার রাতে টাটার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা, ভাইস চেয়ারম্যান ভেনু শ্রীনিবাসন, টাটা সনসের চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন, ও ট্রাস্টি দারায়ুস খাম্বাটা। দুই মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন – “যেভাবেই হোক, টাটা ট্রাস্ট ও টাটা সনসের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
রতন টাটার মৃত্যুর পর থেকেই ট্রাস্টের মধ্যে মতভেদ বাড়ে। অভিযোগ, সাতজন ট্রাস্টির মধ্যে চারজন – দারায়ুস খাম্বাটা, জেহাঙ্গির জেহাঙ্গির, প্রমিত জাভেরি ও মেহলি মিস্ত্রি – নোয়েল টাটার ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের আচরণে অসন্তুষ্ট নোয়েল শিবির মনে করছে, এতে সংগঠনের প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
সরকারের মতে, দেশের বৃহত্তম কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই বিভাজন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, “যদি কোনও ট্রাস্টি গোষ্ঠীর স্থিতিশীলতা নষ্ট করেন, তবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে।”
অতীতে আম্বানি পরিবারেও এমন দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছিল। তখন মধ্যস্থতা করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এবার টাটা গোষ্ঠীর বিবাদ মেটানোর ভার পড়েছে নির্মলা সীতারামনের উপর, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহও।
রতন টাটার প্রয়াণের পর নোয়েল টাটাকে চেয়ারম্যান করা হলেও, ধীরে ধীরে নেতৃত্বের ভারসাম্য নষ্ট হয়। শাপুরজি পালনজি গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ মেহলি মিস্ত্রি অভিযোগ তোলেন, তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে বোর্ড কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত – একদিকে নোয়েল টাটা, অন্যদিকে মেহলি মিস্ত্রি গোষ্ঠী।
যদিও এই বিবাদের প্রভাব এখনও শেয়ারবাজারে পড়েনি; টিসিএস, টাইটান, ট্রেন্ট ও টাটা স্টিলের শেয়ার সামান্য বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা “যদি এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দ্রুত মেটানো না হয়, তাহলে এটি ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে।”
রতন টাটার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্বের ঘাটতি ও পারস্পরিক অবিশ্বাসই এখন টাটা গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সমস্যা। সরকার হয়তো সাময়িক সমাধান আনবে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ ঐক্য ফেরানোই এখন টাটাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



