
প্রায় এক মাস কেটে গিয়েছে। পুজোর আগে কলকাতার মোট ৮৩টি ছাদ রেস্তরাঁর মধ্যে মাত্র ২১টি মুচলেকা জমা দিয়ে খুলেছিল। কিন্তু বাকি গুলির কী হল? সেগুলি কি এখনও বন্ধ আছে, না কি নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালাচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার মাঠে নামছে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। শুরু হতে চলেছে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’।
মেছুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর পর থেকেই ছাদ রেস্তরাঁ ও হোটেলগুলিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়া নিয়ম জারি করেছিল রাজ্য সরকার। কলকাতা-সহ রাজ্যের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে লাইসেন্স নবীকরণ ও নিরাপত্তা শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে উৎসবের মরশুমে যাতে ব্যবসায়িক ক্ষতি না হয়, তার জন্য দমকল, পুলিশ ও পুরসভার কাছ থেকে নির্দিষ্ট শর্ত ও মুচলেকা জমা দিয়ে তিন মাসের অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুরসভার লাইসেন্স বিভাগে খোলা হয়েছিল বিশেষ কাউন্টারও।
কিন্তু পুজোর পর দেখা যাচ্ছে, পুরসভার তথ্য অনুযায়ী ৮৩টির মধ্যে মাত্র ২১টি রেস্তরাঁই অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এক পুর আধিকারিক জানিয়েছেন, “মুচলেকা না দিয়ে বা নিয়ম না মেনে ছাদ রেস্তরাঁ চালু করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “মানবিক কারণেই পুজোর সময় আমরা ছাড় দিয়েছিলাম, যাতে ব্যবসায়িক ক্ষতি না হয়। কিন্তু যদি কেউ নিয়ম ভেঙে কাজ করে, তাহলে আর কোনও রেয়াত থাকবে না।”
পুরসভার লাইসেন্স বিভাগের এক কর্তা অভিযোগ করে বলেন, সম্ভবত কয়েকটি রেস্তরাঁ প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। তাই এবার পুলিশ, দমকল ও পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। শনিবার থেকেই শুরু হবে হঠাৎ পরিদর্শন।
পরিদর্শনের সময় মূলত দেখা হবে ছাদের দরজা খোলা রাখা হয়েছে কি না, কোনও স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়েছে কি না, কিংবা গ্যাস সিলিন্ডার রাখা আছে কি না। কোনও অনিয়ম ধরা পড়লেই নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুরসভার কর্তারা।



