
রাজ্যে চলমান SIR নজরদারি কার্যক্রমের মধ্যেই বিজেপি ও তাদের অনুগামী সংগঠনগুলি বিভিন্ন এলাকায় CAA ক্যাম্পের আয়োজন করছে বলে অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, অসমে NRC-র সময়ে হিন্দু বাঙালিদের যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেই নমুনা দেখিয়েই তিনি বার্তা দেন ‘CAA ক্যাম্পের ফাঁদে পা দেবেন না’। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”এরা যে সিএএ ক্যাম্প করছে, এদের ফাঁদে কেউ পা দেবেন না। যদি কেউ সিএএ ক্যাম্পে গিয়ে আবেদন জানান তাহলে অসমের ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালির মতো অবস্থা হবে।” তাঁর মন্তব্য, ”সবাইকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে ফেলবে।”
সোমবার কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি SIR ইস্যুই কেন্দ্র করে একাধিক বক্তব্য তুলে ধরেন। অভিষেকের দাবি ”তৃণমূল থাকতে কারও নাম বাদ যাবে না। কেউ ভয়ে কিংবা আতঙ্কে থাকবেন না।” তাঁর আরও বক্তব্য, ”তৃণমূলের কর্মীরা রাস্তায় নেমেছেন। প্রত্যেকটা অঞ্চলে, প্রত্যেক ওয়ার্ডে সাহায্যের জন্য হেল্প ডেস্ক-ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় আলাদা ওয়াররুম গঠন করা হবে, যেখানে দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়ক ও সাংসদরা।
SIR শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাজ্যে মৃত্যুর ঘটনাগুলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ”আগামিকাল থেকে এসআইআর শুরু হবে। তার আগেই ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে। সবার প্রায় ভোটার তালিকায় নাম ছিল।” তাঁর বক্তব্যে সংযোজন ”যেভাবে বাংলার মানুষকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, এই কারণেই এদেরকে বাংলা বিরোধী বলি, জমিদার বলি।” এদিন তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন অসমে SIR হচ্ছে না? উল্লেখযোগ্য, SIR আতঙ্ক ঘিরেই পানিহাটি, ইলামবাজার, পূর্ব বর্ধমান, ডানকুনি সহ বিভিন্ন এলাকায় মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে মঙ্গলবার এই ইস্যুতে রাজপথে নামবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গেই থাকবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। SIR-এর বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ মিছিলের জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে পুরো রাজ্য নয় শুধুমাত্র কলকাতা ও সংলগ্ন উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া সহ কয়েকটি জেলা থেকেই সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ রেড রোডের বি.আর. আম্বেদকর মূর্তির সামনে থেকে মিছিলের সূচনা হবে। যাত্রাপথ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে শেষ হবে। সেখানেই বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।



