
বিহারের নির্বাচনী ফলাফলের পরে ইন্ডিয়া জোটের ভিতরে ফাটলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। কংগ্রেসের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে জোটের একাধিক দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। শোনা যাচ্ছে, ফল প্রকাশের পর বহু শরিকই কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ যে ভবিষ্যতে অন্য পথ চিন্তা করছে তারা। অনেক বিরোধী দলের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব দেওয়ার তো যোগ্যই নয়, বরং পুরো লড়াইটাকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
বিহারে ভোট চলাকালীনই জোটসঙ্গীদের প্রতি অসন্তোষ দেখিয়ে একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। অভিযোগ দাবিমতো তাঁদের কোনও আসনই ছাড়েনি কংগ্রেস নেতৃত্ব। আঞ্চলিক দলগুলি যে গুরুত্বপূর্ণ, সেই বার্তাটিই নাকি ইন্ডিয়া জোটে মিলছে না। তাঁদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেই ক্ষোভ জেএমএমের। শোনা যাচ্ছে, আপের পথ অনুসরণ করে তারাও স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা ভাবছে। যদিও ঝাড়খণ্ডে সরকার পরিচালনায় কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়া তাঁদের জন্য জরুরি, তাই এখনই জোট ছাড়ার পথে হাঁটতে পারছে না দলটি।
শিব সেনার উদ্ধব গোষ্ঠীর মধ্যেও জোটে থাকা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব নাকি একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোথায় জোট করে লড়া হবে, কোথায় একা, সবই ঠিক করছে নিজেরা। উদ্ধব শিবির বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ মুম্বই পুরনিগম ভোটে কংগ্রেসের একাই লড়ার সিদ্ধান্তে। তাদের মতে, এতে বিজেপিরই বেশি লাভ হবে। সমাজবাদী পার্টির ধারণা, কংগ্রেসের গোটা সংগঠনে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তা না হলে শতাব্দীপ্রাচীন এই দল অন্যদের উপরই বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে কংগ্রেস শিবিরের কয়েকজন নেতা নাকি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় স্বীকার করেছেন যে বিহারের ফলাফলে দলের ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৪ লোকসভার পরে যে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে। বিশেষ করে পরপর হিন্দি বলয়ের রাজ্যে দুর্বল ফল ভবিষ্যতে জোট রাজনীতিতে দর কষাকষির ক্ষমতাও কমিয়ে দেবে কংগ্রেসের।



