প্রযুক্তি

‘সঞ্চার সাথী’ নিয়ে ইউ-টার্ন! আর প্রি-ইনস্টল নয়, বিরোধিতার চাপে পিছোল কেন্দ্র

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Sanchar Saathi App : ‘সঞ্চার সাথী’ নিয়ে ইউ-টার্ন! আর প্রি-ইনস্টল নয়, বিরোধিতার চাপে পিছোল কেন্দ্র - West Bengal News 24

‘সঞ্চার সাথী’ নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মাঝেই সিদ্ধান্ত বদলে নিল কেন্দ্র সরকার। আগে ঘোষণা করা হয়েছিল, সাইবার নিরাপত্তার স্বার্থে এই অ্যাপটি প্রতিটি স্মার্টফোনে আগেই লাগানো থাকবে। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে মত পাল্টে কেন্দ্র জানাল, এখন থেকে সঞ্চার সাথী (Sanchar Saathi) কোনও স্মার্টফোনেই প্রি-ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক নয়। গ্রাহক চাইলে নিজেই অন্য অ্যাপের মতো এটি ডাউনলোড করতে পারবেন— ফোনে পূর্বনির্ধারিতভাবে থাকবে না।

এর আগে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছিলেন, অ্যাপটি ফোনে থাকবে ঠিকই, তবে গ্রাহকের ইচ্ছা অনুসারে মুছে দেওয়া যাবে। কিন্তু পরে সেই কথাও বদলে দিল কেন্দ্র। ফলে আপাতত কোনও ফোনেই আগে থেকে Sanchar Saathi থাকবে না।

প্রায় দুই দিন আগে কেন্দ্র মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাজারে আসা প্রতিটি স্মার্টফোনে এই অ্যাপ প্রি-লোড করতে হবে, এবং তা গ্রাহকের পক্ষে ডিলিট করা সম্ভব হবে না। বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল বাজারগুলির অন্যতম ভারত যেখানে ১.২ বিলিয়ন-এরও বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন সেখানে এই সিদ্ধান্ত কার্যত বাধ্যতামূলক নজরদারির মতোই বলে সমালোচনা শুরু হয়।

এই নির্দেশিকার প্রকাশ্যে আসার পরেই বিরোধী দলগুলি তীব্র প্রতিবাদ করা শুরু করে। তাঁদের অভিযোগ, সাইবার সুরক্ষা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ফোন নজরদারির উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল বলেন, “এটাকে অসাংবিধানিক বললেও কম বলা হয়। এভাবে বিগ ব্রাদার’রা আমাদের উপর নজরদারি চালাতে পারে না।” বিরোধীদের যুক্তি এই অ্যাপ নাকি নতুন ধরনের এক ‘নয়া পেগাসাস’, যা জননিগরানির অস্ত্র হতে পারে।

চাপ বাড়তে থাকায় শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে কেন্দ্র। বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক জানায়, প্রি-ইনস্টলেশন বাধ্যতামূলক নয়। সরকারের ব্যাখ্যা এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল নাগরিকদের Sanchar Saathi সম্পর্কে সচেতন করতে। ইতিমধ্যেই ১.৪ কোটি মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করেছেন, এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৬ লক্ষ ডাউনলোড হওয়ায় কেন্দ্রের দাবি অ্যাপটি নিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাই আর জোর করে ফোনে ঢোকানোর প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য