ইন্ডিগো বিপর্যয়ে কেন্দ্রের কড়া সুর, ‘প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা’, হুঁশিয়ারি বিমান মন্ত্রীর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ইন্ডিগোর পরপর উড়ান বাতিল এবং পরিষেবা বিপর্যয়ের মধ্যেই কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্র। গত ছয় দিন ধরে চলা বিশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতে বিমান সংস্থাগুলিকে সরাসরি সতর্ক করলেন অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রয়োজনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য সংস্থার কাছেও বড় নজির হয়ে থাকবে।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, বিপুল সংখ্যক উড়ান বাতিল হওয়ার কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পাইলটদের যথাযথ বিশ্রামের জন্য কেন্দ্র আগেই নির্দেশিকা জারি করেছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন “আমরা পাইলট, বিমানকর্মী এবং যাত্রীদের দেখভাল করে থাকি। এই বিষয়ে সমস্ত বিমান সংস্থাকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। ইন্ডিগোর উচিত ছিল ব্যবস্থাপনা সঠিক রাখা। যাত্রীরা ভয়ংকর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা এই পরিস্থিতিকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছি না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি বিমান সংস্থার জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করব। যদি নির্দেশিকা অমান্য হয়, তবে ব্যবস্থা নেব।”
ইন্ডিগো বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলির একটি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে তারা। শনিবার ১৫০০ এবং রবিবার ১৬৫০টি উড়ান সম্পন্ন হয়, ১৩৮টি গন্তব্যে সংস্থা পরিষেবা দেয়। এত বড় পরিসরের পরিষেবা থাকা সত্ত্বেও পাইলট ও কর্মীর স্বল্পতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিজিসিএর নির্দেশ অনুযায়ী পাইলটদের ছুটি মেনে চলতেই ইন্ডিগোর কার্যক্ষমতায় বড়সড় ধাক্কা লাগে। তবে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে রবিবার যাত্রীদের কাছে ৬১০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে সংস্থা। পাশাপাশি ৩ হাজার ব্যাগও যাত্রীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের ওপর এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ায় তদন্ত নেমেছে ডিজিসিএ। সংস্থার সিইও পিটার এলবার্সকে ইতিমধ্যেই নোটিস ধরিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ধারণা, কেন্দ্রের নতুন বিধি সম্পর্কে ইন্ডিগো আগেই অবগত ছিল। তবুও যথাযথ প্রস্তুতি না নেওয়ায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। কেন পূর্ব পরিকল্পনা করা হল না এই প্রশ্নেরই এখন উত্তর জানতে চায় ডিজিসিএ।



