
দিনের নির্দিষ্ট পরিমাণ উড়ান হারানোর শাস্তি! টানা আটদিন ধরে বিপর্যয়ের পর অবশেষে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে নামল কেন্দ্র সরকার।
গত কয়েকদিন ধরে পরপর উড়ান বাতিল এবং যাত্রীদের অস্বস্তির পর এবার কেন্দ্রীয় সরকার ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে চলেছে। সূত্রগুলির দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১১০টি উড়ানের অনুমতি প্রত্যাহার করা হতে পারে এই শীর্ষ বিমান সংস্থার কাছ থেকে। দেশের অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলি যে উড়ান স্বাভাবিকভাবে চালাতে সক্ষম, সেইসব সংস্থার ওপরই বাড়তি উড়ানের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলেও জানা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে। সেখানেই ঠিক হবে ইন্ডিগোর থেকে প্রত্যাহার করা ১১০টি উড়ান কোন কোন সংস্থার মধ্যে ভাগ করা হবে। প্রথম দফায় প্রতিদিনের প্রায় ৫ শতাংশ উড়ান হারাতে চলেছে ইন্ডিগো, এবং পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে আরও ৫ শতাংশ ফ্লাইট কমতে পারে বলে জানা গিয়েছে। যাত্রীদের লাগাতার সমস্যার পুনরাবৃত্তি রুখতেই এমন কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। শুধু উড়ান কমানোই নয়, বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হতে পারে ইন্ডিগোকে, পাশাপাশি জবাবদিহির মুখে পড়তে পারেন সংস্থার বিভিন্ন আধিকারিক।
সোমবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু বলেন, “আমরা পাইলট, বিমানকর্মী এবং যাত্রীদের দেখভাল করে থাকি। এই বিষয়ে সমস্ত বিমান সংস্থাকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। ইন্ডিগোর উচিত ছিল ব্যবস্থাপনা সঠিক রাখা। যাত্রীরা ভয়ংকর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। আমরা এই পরিস্থিতিকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছি না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি বিমান সংস্থার জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করব। যদি নির্দেশিকা অমান্য হয়, তবে ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, ভারতে বেসামরিক বিমান পরিষেবার ক্ষেত্রে ইন্ডিগো অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংস্থা, যাদের প্রতিদিনের উড়ানের সংখ্যা প্রায় ২৩০০। কিন্তু গত সপ্তাহ খানেক ধরে তাদের পরিষেবা কার্যত বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও যাত্রীদের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। অষ্টম দিনেও মঙ্গলবার প্রায় আড়াইশো উড়ান বাতিলের ঘটনা তারই প্রমাণ।



