হিয়ারিংয়ে নির্ধারিত দিনে হাজিরা দিতে না পারলে মিলবে অতিরিক্ত সময়, সঙ্গত কারণ চাইল নির্বাচন কমিশন
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

খসড়া ভোটার তালিকা (Draft List) প্রকাশের পর শুরু হয়েছে যাচাইয়ের পর্ব। মঙ্গলবার প্রকাশিত SIR খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই বা যাঁদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাঁদের জন্য শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই হিয়ারিং চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সব যাচাই-বাছাই শেষ হলে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
ভোটারদের সুবিধার্থে এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। নির্দিষ্ট দিনে কেউ শুনানিতে উপস্থিত হতে না পারলে তাঁকে সময় দেওয়া হবে, তবে তার জন্য উপযুক্ত কারণ জানাতে হবে (Hearing,Valid Reason)। কমিশনের লক্ষ্য, কোনও প্রকৃত ভোটার যেন যাচাই প্রক্রিয়ায় বাদ না পড়েন।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, “হতে পারে কেউ যুক্তিসঙ্গত কারণে নির্দিষ্ট দিনে শুনানিতে আসতে পারলেন না। তার মানে এই নয় যে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রকৃত ভোটারকে বঞ্চিত করা হবে না, এটাই কমিশনের লক্ষ্য।”
এর আগেই SIR প্রক্রিয়ার আওতায় বিএলওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে অন্তত তিন বার করে যেতে হবে।
এদিকে SIR ঘিরে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কমিশনও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায়, সে বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কারও নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সিইও স্পষ্টভাবে জানান, “একজনও বৈধ ভোটারের নাম যদি বাদ যায়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, যদি কোনও অবৈধ ভোটার বা ASDD তালিকাভুক্ত ব্যক্তির নাম ইচ্ছাকৃতভাবে খসড়া তালিকায় ঢোকানো হয়, সেক্ষেত্রেও দায়ীদের বিরুদ্ধে সমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জন ভোটারের ক্ষেত্রে কোনও না কোনও তথ্যগত অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেককেই শুনানিতে হাজিরা দিতে হবে বা সকলেই নোটিস পাবেন। অনেক ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল ত্রুটি, বিএলও কিংবা অ্যাপ সংক্রান্ত ভুলের কারণে এই অসঙ্গতি দেখা যেতে পারে। সেগুলি আলাদা করে পুনরায় যাচাই করা হবে।
ফলে প্রাথমিকভাবে যে অসঙ্গতির সংখ্যা ধরা পড়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। কমিশন সূত্রের দাবি, রি-চেকের পর এই সংখ্যা নেমে প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজারের কাছাকাছি আসতে পারে এমনকি আরও কম হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।



