জাতীয়

পলিউশন সার্টিফিকেট ছাড়া পেট্রোল পাম্পে মিলবে না জ্বালানি, আজ থেকেই কড়া নিয়ম কার্যকর

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পলিউশন সার্টিফিকেট ছাড়া পেট্রোল পাম্পে মিলবে না জ্বালানি, আজ থেকেই কড়া নিয়ম কার্যকর - West Bengal News 24

রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ক্রমাগত খারাপ হতে থাকা বায়ুগুণমানের জেরে সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। তবু পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবার আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই দিল্লিতে বিএস-৬ মানের নিচে থাকা কোনও বেসরকারি গাড়ির প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিএস-৬-এর নিচে থাকা প্রাইভেট গাড়ি রাজধানীতে ঢুকতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লি সংলগ্ন গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ এবং নয়ডা থেকে প্রতিদিন যে বিপুল সংখ্যক গাড়ি রাজধানীতে প্রবেশ করে, তার বড় অংশ কার্যত রাস্তায় নামতে পারবে না। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১২ লক্ষ গাড়ির চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই নতুন নিয়মের ফলে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে সমস্ত পেট্রোল পাম্পকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যে কোনও গাড়ির পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল (PUC) সার্টিফিকেট বৈধ না থাকলে, তাকে জ্বালানি দেওয়া যাবে না। এই নিয়ম কার্যকর করতে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রেকগনিশন (ANPR) ক্যামেরা এবং ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে নিয়মভঙ্গকারী গাড়িগুলিকে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।

নজরদারি আরও কঠোর করতে দিল্লির ১২৬টি গুরুত্বপূর্ণ চেকপয়েন্টে মোট ৫৮০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব হবে রাজধানীতে বাইরে থেকে কোনও নিষিদ্ধ গাড়ি ঢুকছে কি না, তা কড়া নজরে রাখা। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

দিল্লি সরকারের দাবি, রাজধানীর বায়ুদূষণের একটি বড় অংশই যানবাহনের ধোঁয়া থেকে সৃষ্টি হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাতাসে থাকা দূষিত PM10 কণার প্রায় ১৯.৭ শতাংশ এবং PM2.5 কণার ২৫.১ শতাংশের জন্য দায়ী গাড়ির ধোঁয়া। সেই কারণেই যান চলাচলের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর স্টেজ ৪ ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। এই পর্যায়ে অফিসগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলিকে অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের উপর দূষণের প্রভাব কমানো যায়।

দিল্লির ভয়াবহ দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে আজ লোকসভাতেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিরোধী ও শাসক দল—উভয় পক্ষই এই সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর বাতাস শ্বাস নেওয়ার উপযোগী করে তুলতে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর দিল্লিবাসীর।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য