কলকাতা

মেসি বিতর্কে নতুন মোড়! যুবভারতী বিশৃঙ্খলায় মূর্তি বসানো নিয়েও প্রশ্ন হাই কোর্টের

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মেসি বিতর্কে নতুন মোড়! যুবভারতী বিশৃঙ্খলায় মূর্তি বসানো নিয়েও প্রশ্ন হাই কোর্টের - West Bengal News 24

বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার দায় নির্ধারণ নিয়ে এবার সক্রিয় কলকাতা হাই কোর্ট। এই ঘটনা সংক্রান্ত একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানিতে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই শুনানিতেই লেকটাউনের মোড়ে স্থাপিত মেসির মূর্তি প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মন্ত্রী তথা বিধাননগরের বিধায়ক সুজিত বসু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই মূর্তি বসিয়েছেন। এরপরই বিচারপতি পার্থসারথী সেন প্রশ্ন করেন, ”ওই জমি ব্যক্তিগত নাকি সরকারি? ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কি সরকারি জমিতে মূর্তি বসানো যায়?”

শুনানির শুরুতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, মেসিকে দেখার জন্য যাঁরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে টিকিট কিনেছিলেন, তাঁদের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আদালতও রাজ্যের অবস্থান জানতে চায়। তার উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আমরা টিকিট বিক্রি করিনি। টাকা উদ্ধারের কাজও আমাদের নয়। আমরা রিকভারি এজেন্ট নই। ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছে। রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর এই ভূমিকা দেখতে পাবেন না।”

এরপর শুভেন্দুর আইনজীবী আরও প্রশ্ন তোলেন, ”মেসিকে অগ্রিম হিসাবে ৬০-৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তখন টিকিটও বিক্রি হয়নি। তাহলে অগ্রিম এই টাকা কে দিল? কারা এই অনুষ্ঠানের স্পনসর ছিল?” এই প্রসঙ্গে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি জানান, ”ইডি বা SFIO-কে দিয়ে তদন্ত হোক।”

১৩ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে দর্শক প্রবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও উচ্চ আদালতে তুলে ধরেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের কাছে মোট ৪০০টি পাস চেয়েছিল শতদ্রু দত্তর টিম, যা মঞ্জুর করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ছিল ক্লোজ প্রক্সিমিটি বা CP পাস এবং বাকি ৩৭৩টি ছিল ডিউটি পাস। সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেলের জন্য ৬টি CP পাস দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২৫টি CP পাস উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের এবং ১২টি রাজ্য আইবি আধিকারিকদের জন্য বরাদ্দ ছিল। জলের বোতল নিয়ে প্রবেশের কোনও অনুমতি পুলিশ দেয়নি বলেও তিনি জানান। তবে কীভাবে জলের বোতল মাঠে ঢুকল, তা তদন্তাধীন।

এই তথ্য শোনার পর বিচারপতি পার্থসারথী সেন প্রশ্ন তোলেন, ”আপনারা কি নিজেরা খতিয়ে দেখে CP Pass দিয়েছিলেন? নাকি আয়োজকরা যা চেয়েছে সেটা দিয়েছেন?” এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”১২ তারিখ এগুলো চাওয়া হয়েছে। সবটা দেখতে হলে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হতো। তার প্রতিক্রিয়া আরও খারাপ হতো।”

অন্যদিকে, শতদ্রু দত্তর আইনজীবী বিশ্বজিৎ মান্না জানান, ”মাঠে কী করে বেশি লোক ঢুকল, সেটা আমরা বলতে পারব না। গেটের দায়িত্ব পুলিশের ছিল। পুলিশও মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়েছিল।” পাল্টা যুক্তিতে শুভেন্দুর আইনজীবীর দাবি, আয়োজকদের লিখিত বক্তব্য ছাড়াই যদি প্রশাসন কার্যত সহযোগিতা করে থাকে, তবে রাজ্য সরকার ও আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠতেই পারে।

দীর্ঘ শুনানি শেষে আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের বেঞ্চ।

আরও পড়ুন ::

Back to top button

দয়া করে ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপনের অনুমতি দিন

দেখে মনে হচ্ছে আপনি কোনও বিজ্ঞাপন ব্লকার ব্যবহার করছেন। আমরা বিজ্ঞাপনের উপর ভরসা করি ওয়েবসাইটের ফান্ডের জন্য