
মাত্র ১৪ বছর বয়সেই একের পর এক নজির গড়ে চলেছে বৈভব সূর্যবংশী। বিহারের এই কিশোর ক্রিকেটার মাঠে নামলেই যেন রেকর্ড বই খুলে বসতে হয়। সেই ধারাবাহিক সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে এবার বৈভবের ঝুলিতে যোগ হল দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার পেলেন তিনি। এই সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎও হয় বৈভবের। তবে তাঁদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পাঁচ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের জন্য দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান হল ‘রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’। আইপিএল থেকে শুরু করে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৯ দল এবং বিহার রাজ্য দলের হয়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছেন বৈভব। অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই তাঁর মধ্যে তরুণ শচীন তেণ্ডুলকরের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। মাঠের সাফল্যের পর এবার জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি পেলেন এই কিশোর ব্যাটার। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। ক্রিকেটে অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্যই বৈভবের হাতে ওঠে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথম কোনও ক্রিকেটার এই পুরস্কারে সম্মানিত হলেন। এর আগে দাবায় প্রজ্ঞানন্দ রমেশবাবু ও বৈশালী রমেশবাবু এই সম্মান পেয়েছিলেন। তবে এ বছর বৈভব ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ১০ বছরের বালক শ্রবণ সিং, যিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন সীমান্তে ভারতীয় সেনাদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও নিয়মিত সেনা জওয়ানদের কাছে প্রয়োজনীয় রসদ পৌঁছে দিয়েছিল সে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈভবের এটি প্রথম সাক্ষাৎ নয়। চলতি বছরের মে মাসে মোদির বিহার সফরের সময় পাটনা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল বৈভব ও তাঁর পরিবারের। সেদিন কিশোর ক্রিকেটারের হাত ধরে, কাঁধে হাত রেখে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মোদি। তার আগেও বৈভবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা সকলেই বৈভব সূর্যবংশীর পারফরম্যান্স দেখেছি। আইপিএলে অসাধারণ খেলছে। বিহারের ছেলে বৈভব এত অল্প বয়সেও এত বড় রেকর্ড তৈরি করেছে। অনেক পরিশ্রমের ফসল এটা। বিভিন্ন স্তরে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও এক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।”



