
নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগোচ্ছে, ততই রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ বাড়ছে। এই আবহেই ফের আলোচনায় উঠে এলেন দিলীপ ঘোষ। ভোটের সময়ে বুথের ভিতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলে তিনি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন। সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন-এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত বৈঠক রয়েছে। তার আগেই দিলীপের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা উসকে দিয়েছে।
শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আমরা বারবার দাবি করেছি যাতে বুথের ভিতর বাহিনী থাকে। ওরা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভোট লুটপাট হয় বুথের ভিতরে। আমাদের সামনেই এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এবার যদি সত্যিই অন্যরকম কিছু হয় তাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলে তৃণমূলের টেকা মুশকিল।”
এর পাশাপাশি বাহিনীর দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগও তোলেন তিনি। দিলীপের দাবি, “বাহিনী যথেষ্ট সংখ্যক আসে। পঞ্চায়েত ভোটেও পর্যাপ্ত বাহিনী এসেছিল। ভোট হচ্ছে বুথে। আর বাহিনী বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকে আবার হাজারদুয়ারি দেখতে গিয়েছিল। আমাদের বক্তব্য নতুন ভোটার আই কার্ড ছাড়া কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বুথে কি হচ্ছে সেটাও বাহিনী দেখবে। তাহলেই নিরপেক্ষ ভোটাধিকার সম্ভব।”
সোমবার কমিশনের বৈঠকের আগে ভোটমুখী বাংলায় এই মন্তব্য যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কারণ, সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। আসন্ন ভোটকে ঘিরে দলের কাছে চ্যালেঞ্জ যে যথেষ্ট বড়, তা স্পষ্ট।
দলীয় নেতারা মঞ্চে মঞ্চে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এর কথা তুলে ধরলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে বাস্তবে সংগঠনিক প্রস্তুতিতে পিছিয়ে রয়েছে বঙ্গ বিজেপি। শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, দক্ষ সংগঠকের ঘাটতি এবং ভোটমুখী রাজ্যে একাধিক সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাব সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সহজ নয়। এই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিকে সামনে এনে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির এমনটাই মত পর্যবেক্ষকদের।



