
বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাতে সময় খুব বেশি নেই। সেই লক্ষ্যেই ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে প্রচারে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তিনি পৌঁছন ইটাহারে। সেখানে একদিকে মহারাষ্ট্রের জেল থেকে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, অন্যদিকে অভিনব ভঙ্গিতে গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে জনসংযোগ সারতে দেখা যায় তাঁকে।
নির্দিষ্ট প্রচারগাড়ির বদলে নিজের গাড়ির ছাদে উঠে কখনও রাস্তার দু’ধারের মানুষের দিকে হাত নাড়েন, কখনও আবার গোলাপের পাপড়ি ছুড়ে শুভেচ্ছা জানান। সেখান থেকেই ২০২৬ সালে চতুর্থবার তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন নির্বাচনী লক্ষ্যও।
রোড শো শেষে সভামঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ”বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলা থেকে অসুরদের তাড়াতে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।” ইটাহারের রাস্তার দু’ধারে জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ”এটা তো শুধুই ট্রেলার, আগামিদিনে ওদের সিনেমা দেখাতে হবে।”
এদিন ইটাহার থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বিরোধী শূন্য করার ডাক দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”উত্তর দিনাজপুরে ৯টা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬টা আসন। অর্থাৎ ১৫-০ করতে হবে।” পাশাপাশি, আগামী নির্বাচনে ইটাহার থেকেই সবচেয়ে বেশি লিড পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এদিন সফরের শুরুতে বালুরঘাটে গিয়ে মহারাষ্ট্রে জেল খেটে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। তাঁদের মুখে দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা শুনে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিজেপিকে আক্রমণ করে তখন তিনি বলেন, “কারও চোখের জল বিফলে যাবে না।”
এরপর আরও একবার মানবিক বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “পার্টি, পলিটিক্স পরে হবে। আমাদের তো একটা দায়িত্ব আছে। রাজনীতি করতে গিয়ে ১০ কোটি মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। কার স্বার্থসিদ্ধি হচ্ছে আমি জানি না। মানুষের চোখের জল বিফলে যাবে না। একদিন না একদিন অভিশাপ লাগবেই।”



