মৌলবাদীদের নিশানায় হিন্দুদের উৎসব, ‘ইসলামে হারাম’ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পৌষ পার্বণ বন্ধের ফতোয়া
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

ইসলামি মৌলবাদীদের চাপে এবার হিন্দুদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবও আক্রান্ত। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণকে এ বছর ‘হারাম’ আখ্যা দিয়ে ফতোয়া জারি করা হয়েছে বাংলাদেশে। নতুন ধান ওঠার আনন্দে দুই বাংলাজুড়ে যে উৎসব দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে এসেছে, সেই আনন্দোৎসবেই এবার নিষেধাজ্ঞার ছায়া। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ইসলামিক গোষ্ঠীর তরফে হিন্দুদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা নিজেদের এলাকায় কোনও ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না। এই ফতোয়ার জেরে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সে দেশের হিন্দু সমাজে।
মকর সংক্রান্তি মানেই পিঠেপুলির রকমারি সম্ভার। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে পিঠের গন্ধ। নবান্ন উপলক্ষে বাঙালিরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এতদিন একসঙ্গে মেতে উঠত এই উৎসবে। পদ্মাপাড়েও জাঁকজমক করেই পালিত হতো পৌষ পার্বণ। কিন্তু ইউনুসের বাংলাদেশে সেই চেনা ছবি এবার বদলে যাচ্ছে। মৌলবাদীদের দাপটে এবছর এই উৎসব পালনই প্রশ্নের মুখে। বিভিন্ন জায়গায় প্রচার চালানো হচ্ছে যে মকর সংক্রান্তি নাকি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, ফলে এতে অংশ নেওয়া চলবে না। বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পোস্টার ও বার্তা ছড়িয়ে এই নিষেধাজ্ঞা জানানো হচ্ছে।
অভিযোগ উঠছে, ইউনুসের বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। এর আগেই সরস্বতী পুজোয় ছুটি বাতিল ও অমর একুশে উদযাপন নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্তের কথা সামনে এসেছিল। এবার পৌষ পার্বণেও সেই ধারাবাহিকতা, যদিও এ ক্ষেত্রে সরাসরি মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলিই সামনে এসেছে। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই সব নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নীরব সমর্থন রয়েছে, আর মৌলবাদীদের ব্যবহার করেই ধীরে ধীরে কট্টরপন্থী এজেন্ডা সামনে আনা হচ্ছে।
২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত সাতজন হিন্দু নিহত হয়েছেন বলে দাবি। উৎসব পালনের অধিকার থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পরিচয় সব ক্ষেত্রেই হিন্দুদের কোণঠাসা করার পথে হাঁটছে সে দেশের ইসলামিক গোষ্ঠীগুলি, এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।



