কাশী যাত্রা আরও সহজ ও কম খরচে, ভোটের মুখে শিয়ালদহ–বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের ঘোষণা রেলের
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বাঙালির ভ্রমণ মানেই কি শুধু দিঘা বা পুরী? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে, বারাণসীর প্রতিও ক্রমশ বাড়ছে বাঙালির আকর্ষণ। গঙ্গার সন্ধ্যার আরতি থেকে শুরু করে কুয়াশা ভেদ করে নৌকাভ্রমণ—সব মিলিয়ে কাশী এখন পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকেই। সেই আগ্রহকে মাথায় রেখেই বিধানসভা ভোটের আগে ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির জন্য বিশেষ সুখবর দিল কেন্দ্র। এবার কম সময় ও কম খরচে বারাণসী পৌঁছনো আরও সহজ হতে চলেছে।
বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের পর বাংলার জন্য একাধিক অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। তার মধ্যেই রয়েছে শিয়ালদহ ও বারাণসীর মধ্যে একটি নতুন ট্রেন। জানা যাচ্ছে, চলতি মাস জানুয়ারিতেই এই ট্রেনের উদ্বোধন হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে।
এর আগেই শনিবার শিয়ালদহ–বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ভারতীয় রেল। রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬ কোচের এই ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে রওনা দেবে এবং পরদিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে বারাণসী পৌঁছবে। বিপরীত দিক থেকে, বারাণসী থেকে ট্রেনটি ছাড়বে রাত ১০টা ১০ মিনিটে এবং পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে শিয়ালদহে পৌঁছনোর কথা।
তবে এই ট্রেন প্রতিদিন চলবে না। নতুন সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহে মাত্র তিন দিন পরিষেবা মিলবে। শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ছাড়বে সোমবার, বুধবার ও শনিবার। অন্যদিকে বারাণসী থেকে যাত্রা শুরু করবে রবিবার, মঙ্গলবার ও শুক্রবার।
দীর্ঘ পথ হলেও এই ট্রেনের স্টপেজ সংখ্যা রাখা হয়েছে সীমিত। শিয়ালদহ ছাড়ার পর দুর্গাপুর, আসানসোল, মধুপুর, জসিডি, পাটনা এবং পণ্ডিত দিন দয়াল উপাধ্যায় স্টেশনে থামবে ট্রেনটি। বারাণসী থেকে ছাড়ার পরেও একই স্টেশনগুলিতেই স্টপেজ থাকবে বলে জানিয়েছে রেল।
যাত্রাভাড়ার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে রেল সূত্রে ইঙ্গিত, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের তুলনায় এই ট্রেনের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
এদিকে উত্তরবঙ্গের জন্যও একাধিক নতুন ট্রেনের ঘোষণা করেছে রেল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার থেকে একটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চলবে মুম্বইয়ের পানভেল স্টেশন পর্যন্ত। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার–বেঙ্গালুরু রুটেও একটি নতুন ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি নতুন ট্রেন পরিষেবা শুরু হতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মুখেই কেন এতগুলি নতুন ট্রেনের ঘোষণা? আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই রেল পরিষেবাকে হাতিয়ার করে ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।



