
মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে কালীঘাটে বগলা মায়ের নবনির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বিকেলে তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। সেই পুজো চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কাসর-ঘণ্টা বাজাতে দেখা যায়।
মকর সংক্রান্তি বাঙালির বারোমাসি উৎসবের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এদিন ভোর থেকেই গঙ্গাসাগরে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। পাশাপাশি বীরভূমে শুরু হয়েছে জয়দেব মেলা, রয়েছে টুসু পরবও। গোটা রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ। এই আবহেই কালীঘাটে বগলা মায়ের মন্দিরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর সময়ে তিনি কিছুক্ষণ মন্দির চত্বরে বসে থাকেন এবং কাসর-ঘণ্টা বাজিয়ে আরাধনায় অংশ নেন। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে রাজ্যের মানুষকে শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “জমি আমি দেখে নিয়েছি। রেডি করে দিয়েছি। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শিলান্যাস করব।” যদিও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। দ্বিতীয় সপ্তাহের বদলে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে বাংলার সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিঘায় জগন্নাথদেবের মন্দির নির্মাণের পর দুর্গা অঙ্গন তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিসেম্বর মাসেই তার শিলান্যাস সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দু’বছরের মধ্যেই মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহেই দু’দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ১৬ জানুয়ারি শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন তিনি। পরের দিন, ১৭ জানুয়ারি জলপাইগুড়িতে কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরবঙ্গে একাধিকবার গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সফরের মধ্যেই দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দিরে পুজো দেন তিনি। তারপরই শিলিগুড়িতে বাংলার বৃহত্তম মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেন।



